শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ছাত্রলীগের দায়িত্ব থেকে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগে, নতুন ভূমিকায় মেহেদী হাসান রিয়াদে গাউছিয়া কমিটির উদ্যোগে জশনে ঈদে মিলাদুন্নবী সাঃ আজিমুশশান মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত; নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ডিসি-এসপির কাছে মানবাধিকারকর্মী আরমানের স্মারকলিপি স্মৃতির ধুলো চট্টগ্রামে জমকালো আয়োজনে NEW N.K CAR CENTER-এর উদ্বোধন ফাহিম চৌধুরী সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হওয়ায় মোবারক হোসেন মিন্টুর নেতৃত্বে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন ঝিনাইগাতীতে অবৈধ পলিথিনবিরোধী অভিযান, ব্যবসায়ীকে জরিমানা রাবিতে নতুন দুই অ্যাম্বুলেন্স উদ্বোধন, জরুরি চিকিৎসাসেবা আরও গতিশীল করার উদ্যোগ, আইসিইউ চালুর সম্ভাব্যতা যাচাই তাহিরপুর সীমান্তে ভারতের কয়লার গুহায় মাটি চাপায় বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু। বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবসের আলোচনা সভায় বক্তারা ফিজিওথেরাপি পেশার স্বীকৃতি ও রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল আইন বাস্তবায়নের দাবি

কারমাইকেল কলেজের সেই হারানো দিনগুলো

তরিকুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি / ১২৫ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : রবিবার, ১৮ জানুয়ারী, ২০২৬

— তরিকুল ইসলাম

​সময় তার নিজস্ব গতিতে বয়ে চলে। ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টাতে উল্টাতে আজ আমরা জীবনের মধ্যগগনে। কিন্তু মনের কোনো এক গহীন কোণে আজও অমলিন হয়ে আছে কারমাইকেল কলেজের সেই সবুজ চত্বর আর বন্ধুত্বের অমূল্য কিছু স্মৃতি। আজ থেকে প্রায় ২৫ বছর আগে, অনার্স ২০০১-২০০২ শিক্ষাবর্ষে আমরা যখন বাংলা বিভাগে ভর্তি হলাম, তখন জানতাম না এই ক্যাম্পাস আমাদের জীবনের শ্রেষ্ঠ অধ্যায় হয়ে থাকবে।

​আজ আমাদের বন্ধুদের একটি পুরনো গ্রুপ ছবি হাতে এল। ছবিটির দিকে তাকাতেই স্মৃতির জানলাগুলো এক এক করে খুলে গেল। ছবিতে আমরা কজন— জহুরুল, মাজেদ, শিউলি, শাহনাজ, সঞ্চিতা, মুক্তি, মদিনা, সেলী, মনি আর আমি (তরিকুল)। সেই দিনগুলোতে আমাদের কোনো ক্লান্তি ছিল না। ক্লাস শেষ হওয়া মাত্রই আমাদের গন্তব্য ছিল কলেজের চিরচেনা ‘বৃন্দাবন’। সেখানে বসে চলত অন্তহীন আড্ডা।

​আমাদের বন্ধুত্বের রসায়নটাও ছিল বেশ চমৎকার। শাহনাজ, শিউলি, মুক্তি আর মদিনা ছিল অভিন্ন হৃদয় বন্ধু; সারাক্ষণ তাদের একসাথেই দেখা যেত। অন্যদিকে সেলী আর মনি ছিল ছায়ার মতো একে অপরের সঙ্গী। আর জহুরুল, মাজেদ ও আমি— আমরা তো সবসময়ই এক সাথে চষে বেড়াতাম পুরো ক্যাম্পাস। সেই দিনগুলোর প্রতিটি মুহূর্ত ছিল আনন্দ আর উচ্ছ্বাসে ভরা।

​আজ বিশ বছর পর আমাদের জীবন একদম বদলে গেছে। সবাই এখন পেশাগত ও সাংসারিক ব্যস্ততায় নিমগ্ন। প্রিয় বন্ধু শাহনাজ এখন সুদূর আমেরিকায় প্রবাসী, তবে দূরত্ব বাড়লেও আমাদের প্রতি তার টান কমেনি। সে প্রতিনিয়ত সবার খোঁজখবর রাখে। সঞ্চিতা, মুক্তি, মদিনা, মনি আর জহুরুল মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত। মাজেদ এখন উপজেলা শিক্ষা অফিসার হিসেবে গুরুদায়িত্ব পালন করছে। শিউলি রাজধানী ঢাকায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে কর্মরত, আর সেলী সামলাচ্ছে তার সংসার। আমি (তরিকুল) বর্তমানে এসএসএস নামে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করছি।
​এখন আর আগের মতো সশরীরে দেখা হয় না। যান্ত্রিক জীবনে হাই-হ্যালো সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে অনলাইন গ্রুপে। কিন্তু যখনই পুরনো কোনো ছবি সামনে আসে, তখনই মনে পড়ে যায় কারমাইকেল কলেজের সেই সোনালী সময়গুলোর কথা। বুকের ভেতর এক অদ্ভুত হাহাকার জেগে ওঠে। মনে হয়, যদি আবার একবার সেই ২০ বছর আগে ফিরে যেতে পারতাম! বৃন্দাবনের সেই আড্ডার মেজাজ, সেই হাসি-ঠাট্টা আর সহজ-সরল বন্ধুত্বগুলোই আসলে আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন।
​সময় হয়তো আমাদের অনেক দূরে ঠেলে দিয়েছে, কিন্তু কারমাইকেল কলেজের সেই স্মৃতিগুলো আজও আমাদের এক সুতোয় বেঁধে রেখেছে। প্রিয় বন্ধুরা, তোমরা যেখানেই থাকো— ভালো থেকো। আমাদের বন্ধুত্ব বেঁচে থাকুক হৃদয়ের গহীনে, চিরকাল…


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর