বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
সরিষাবাড়ীতে স্বাস্থ্য  বীমা দাবীর চেক হস্তান্তর ও গ্রাহক সমাবেশ অনুষ্ঠিত  সুনামগঞ্জ শহরের আলোচিত প্রায় অর্ধ কোটি টাকা স্বর্ণ ও ডলার চুরি মামলার রহস্য উদঘাটন আটক-৫ ‎ বিশ্ব পৃথিবী দিবসে শেরপুরে স্বেচ্ছাসেবীদের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি!  শহীদ এম. মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের নাম পরিবর্তনের প্রতিবাদে লন্ডন থেকে সোহেল সরকারের তীব্র নিন্দা দোয়ারাবাজারে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির দায়ে ব্যবসায়ীকে জরিমানা কারমাইকেল কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও সিনিয়র আইনজীবী রেজেকা সুলতানা ফেন্সি সংসদ সদস্য মনোনীত ইসলামপুরে নির্যাতনের শিকার সেলিম বাবুর অবস্থা আশঙ্কাজনক!যে কোন সময় পাওয়া যেতে পারে অনাকাঙ্ক্ষিত সংবাদ সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির ৩৬ নেত্রীর সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির ৩৬ নেত্রীর মনোনয়ন ঘোষণা, রাজশাহী থেকে মাহমুদা হাবিবা। খানসামায় মসজিদের বাউন্ডারি ওয়াল ভাঙচুর ও দখলের অভিযোগ, এলাকায় উত্তেজনা ওসির চোখ ফাঁকি দিয়ে রাতের আঁধারে ধোপাজান নদীতে বালু লুটপাটের অভিযোগ,ডিউটির দায়বদ্ধতা ছাড়াতে ব্যবসায়ীর নৌকা জব্দ।

কারমাইকেল কলেজের সেই হারানো দিনগুলো

তরিকুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি / ৭৩ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : রবিবার, ১৮ জানুয়ারী, ২০২৬

— তরিকুল ইসলাম

​সময় তার নিজস্ব গতিতে বয়ে চলে। ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টাতে উল্টাতে আজ আমরা জীবনের মধ্যগগনে। কিন্তু মনের কোনো এক গহীন কোণে আজও অমলিন হয়ে আছে কারমাইকেল কলেজের সেই সবুজ চত্বর আর বন্ধুত্বের অমূল্য কিছু স্মৃতি। আজ থেকে প্রায় ২৫ বছর আগে, অনার্স ২০০১-২০০২ শিক্ষাবর্ষে আমরা যখন বাংলা বিভাগে ভর্তি হলাম, তখন জানতাম না এই ক্যাম্পাস আমাদের জীবনের শ্রেষ্ঠ অধ্যায় হয়ে থাকবে।

​আজ আমাদের বন্ধুদের একটি পুরনো গ্রুপ ছবি হাতে এল। ছবিটির দিকে তাকাতেই স্মৃতির জানলাগুলো এক এক করে খুলে গেল। ছবিতে আমরা কজন— জহুরুল, মাজেদ, শিউলি, শাহনাজ, সঞ্চিতা, মুক্তি, মদিনা, সেলী, মনি আর আমি (তরিকুল)। সেই দিনগুলোতে আমাদের কোনো ক্লান্তি ছিল না। ক্লাস শেষ হওয়া মাত্রই আমাদের গন্তব্য ছিল কলেজের চিরচেনা ‘বৃন্দাবন’। সেখানে বসে চলত অন্তহীন আড্ডা।

​আমাদের বন্ধুত্বের রসায়নটাও ছিল বেশ চমৎকার। শাহনাজ, শিউলি, মুক্তি আর মদিনা ছিল অভিন্ন হৃদয় বন্ধু; সারাক্ষণ তাদের একসাথেই দেখা যেত। অন্যদিকে সেলী আর মনি ছিল ছায়ার মতো একে অপরের সঙ্গী। আর জহুরুল, মাজেদ ও আমি— আমরা তো সবসময়ই এক সাথে চষে বেড়াতাম পুরো ক্যাম্পাস। সেই দিনগুলোর প্রতিটি মুহূর্ত ছিল আনন্দ আর উচ্ছ্বাসে ভরা।

​আজ বিশ বছর পর আমাদের জীবন একদম বদলে গেছে। সবাই এখন পেশাগত ও সাংসারিক ব্যস্ততায় নিমগ্ন। প্রিয় বন্ধু শাহনাজ এখন সুদূর আমেরিকায় প্রবাসী, তবে দূরত্ব বাড়লেও আমাদের প্রতি তার টান কমেনি। সে প্রতিনিয়ত সবার খোঁজখবর রাখে। সঞ্চিতা, মুক্তি, মদিনা, মনি আর জহুরুল মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত। মাজেদ এখন উপজেলা শিক্ষা অফিসার হিসেবে গুরুদায়িত্ব পালন করছে। শিউলি রাজধানী ঢাকায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে কর্মরত, আর সেলী সামলাচ্ছে তার সংসার। আমি (তরিকুল) বর্তমানে এসএসএস নামে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করছি।
​এখন আর আগের মতো সশরীরে দেখা হয় না। যান্ত্রিক জীবনে হাই-হ্যালো সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে অনলাইন গ্রুপে। কিন্তু যখনই পুরনো কোনো ছবি সামনে আসে, তখনই মনে পড়ে যায় কারমাইকেল কলেজের সেই সোনালী সময়গুলোর কথা। বুকের ভেতর এক অদ্ভুত হাহাকার জেগে ওঠে। মনে হয়, যদি আবার একবার সেই ২০ বছর আগে ফিরে যেতে পারতাম! বৃন্দাবনের সেই আড্ডার মেজাজ, সেই হাসি-ঠাট্টা আর সহজ-সরল বন্ধুত্বগুলোই আসলে আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন।
​সময় হয়তো আমাদের অনেক দূরে ঠেলে দিয়েছে, কিন্তু কারমাইকেল কলেজের সেই স্মৃতিগুলো আজও আমাদের এক সুতোয় বেঁধে রেখেছে। প্রিয় বন্ধুরা, তোমরা যেখানেই থাকো— ভালো থেকো। আমাদের বন্ধুত্ব বেঁচে থাকুক হৃদয়ের গহীনে, চিরকাল…


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর