নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
ছুটির আমেজে ব্যাগ-পত্তর গুছিয়ে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছানোর পর ক্লান্তি দূর করতে হোটেল রুমে ঢুকে আরাম করার লোভ কার না হয়? কিন্তু ভ্রমণ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হোটেল রুমে পা রেখেই বিছানায় ক্লান্ত শরীর এলিয়ে না দিয়ে সামান্য কয়েকটা মিনিট ব্যয় করা উচিত। কারণ, একটুখানি সতর্কতাই আপনাকে বড় ধরনের আইনি বা আর্থিক ঝামেলা থেকে রক্ষা করতে পারে।
সম্প্রতি ভ্রমণপিপাসুদের জন্য হোটেল রুমে প্রবেশের পর তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষা করার মতো ৫টি জরুরি বিষয়ের কথা জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। একনজরে দেখে নিন সেগুলো:
১. দরজা ও লকের সুরক্ষা নিশ্চিত করুন
রুমে ঢুকেই সবার আগে প্রধান দরজাটি ঠিকমতো বন্ধ এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক হচ্ছে কি না তা পরীক্ষা করুন। দরজায় অতিরিক্ত ডেডবোল্ট (Deadbolt) বা সিকিউরিটি ল্যাচ থাকলে সেটিও সঠিকভাবে কাজ করছে কি না দেখে নেওয়া আবশ্যক। আপনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এটি প্রথম এবং প্রধান ধাপ।
২. আসবাবপত্র ও ফিটিংসের ত্রুটি যাচাই করুন
রুমে কোনো ভাঙা আসবাব, দেওয়ালে দাগ, ত্রুটিপূর্ণ টেলিভিশন বা বাথরুমে কোনো ফিটিংস নষ্ট আছে কি না তা ভালো করে খেয়াল করুন। এমন কোনো সমস্যা আগে থেকেই থাকলে দ্রুত ছবি তুলে রাখুন এবং রিসেপশনে তা জানিয়ে দিন। চেক-আউটের সময় পূর্বের এই ত্রুটির দায় যেন আপনার ওপর না পড়ে, সে জন্যই এই সতর্কতা।
৩. বিছানা ও বেডিং পরীক্ষা করুন
বিশ্রামের আগে ম্যাট্রেসের সেলাইয়ের অংশ, হেডবোর্ডের আশপাশ এবং বেডিংয়ে কোনো অস্বাভাবিক কালো বা বাদামি দাগ কিংবা বিছানার পোকা (Bed Bug)-র উপস্থিতি আছে কি না তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করুন। যদি সামান্য সন্দেহও হয়, তবে নিজের জিনিসপত্র বিছানার ওপর না রেখে সাথে সাথে হোটেল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান এবং রুম পরিবর্তনের অনুরোধ করুন।
৪. স্মোক অ্যালার্ম ও জরুরি বহির্গমণ পথ জেনে নিন
রুমে প্রবেশ করেই স্মোক অ্যালার্মটি সচল আছে কি না এবং তা কোনোভাবে ঢাকা বা ক্ষতিগ্রস্ত কি না দেখে নিন। পাশাপাশি, রুমের দরজায় টাঙানো ইমার্জেন্সি এভাকুয়েশন চার্ট দেখে আপনার নিকটতম ফায়ার এক্সিট ও জরুরি বহির্গমণ পথ কোথায় অবস্থিত, তা আগে থেকেই চিনে রাখুন। কোনো অবস্থাতেই অ্যালার্ম নিজে থেকে খোলার বা নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টা করবেন না।
৫. লকার ও মূল্যবান জিনিসের নিরাপত্তা
রুমে ইন-রুম সেফ বা লকার থাকলে সেটি ব্যবহারের নিয়ম ভালোভাবে জেনে নিন। পাসপোর্ট, নগদ অর্থ কিংবা অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র খোলা জায়গায় বা এদিক-সেদিক ফেলে রাখবেন না। হোটেলের লকার বা সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কোনো সংশয় থাকলে তা রিসিভশনকে জানান।
বিশেষ পরামর্শ:
হোটেলের রুমের পরিচ্ছন্নতা কিংবা নিরাপত্তায় সামান্য কোনো ত্রুটি চোখে পড়লে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত হোটেল রিসেপশনকে অবহিত করুন। প্রয়োজনে অন্য রুমের দাবি জানান। কয়েক মিনিটের এই ছোট্ট সচেতনতাই আপনার কাঙ্ক্ষিত ছুটিটিকে রাখতে পারে সম্পূর্ণ ঝঞ্ঝাটমুক্ত ও নিরাপদ।