মিজানুর রহমান, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি:
বাংলা বর্ষের সবচেয়ে মিষ্টি ও রসালো মাস জৈষ্ঠ্য শুরু হয়েছে। প্রকৃতি যেন নিজের হাতে সাজিয়ে তুলেছে সবুজ-হলুদের উৎসব। শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার গ্রামে গ্রামে, বাগানে বাগানে এখন রসালো ফলের মৌ মৌ গন্ধে ভরপুর। আম, কাঁঠাল, লিচু, আনারসসহ নানা মৌসুমি ফলের সমাহারে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।
ঝিনাইগাতীর উর্বর মাটি ও অনুকূল আবহাওয়ায় এবারও ফলন ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। বাগানে থোকায় থোকায় ঝুলছে সুবাসি আম। হিমসাগর, ল্যাংড়া, আম্রপালিসহ স্থানীয় জাতের আম পেকে উঠছে। পাশাপাশি কাঁঠালের মিষ্টি গন্ধে ভরে উঠেছে বাতাস।
লটকন, জাম, জামরুল, আতাফল, ফলও বাজারে আসতে শুরু করেছে। স্থানীয় কৃষক আব্দুল মান্নান জানান, “জৈষ্ঠ্য মাস এলে আমাদের এলাকায় যেন সোনালি সময় আসে। গাছে গাছে ফলের ভারে ডাল নুইয়ে পড়ে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বাগানে কাজ করতে করতেও মন ভরে যায়।” ঝিনাইগাতীর হাট-বাজারগুলো এখন ফলের পসরায় সাজানো। ক্রেতারা ভিড় করছেন তাজা ও সুলভ মূল্যের ফল কিনতে।
শুধু স্থানীয় বাজার নয়, আশপাশের জেলাগুলোতেও ঝিনাইগাতীর ফলের চাহিদা রয়েছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার ওয়াহিদুজ্জামান নুর প্রতিনিধি কে বলেন, এবার ঝিনাইগাতী উপজেলায় ২২ হেক্টর জমিতে লিচু ও ৩৬ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। এবার আবহাওয়া অনুকূল থাকায় ফলের উৎপাদন আশানুরূপ। তবে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে পোকামাকড় ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে সতর্ক থাকতে। জৈষ্ঠ্যের এই মধুমাস শুধু ফলের উৎসব নয়, এ যেন প্রকৃতির উদার দান।
গ্রীষ্মের তাপকে উপেক্ষা করে যারা বাগানে ঘুরে ফল পাড়েন, তাদের জন্য এ মাস সত্যিই মধুর।