বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
চাকমারকুল রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মামলার সন্দেহভাজন আসামি গ্রেপ্তার হোয়াইক্যং চেকপোস্টে বাস তল্লাশিতে ৬৯০ পিস ইয়াবাসহ তরুণ আটক তাড়াশ ভূমি অফিসে নতুন নেতৃত্ব, বাড়ছে সেবাপ্রত্যাশীদের আশা দায়িত্বে মো. সাইফুল ইসলাম সাইফ ন্যায় বিচার – লরেন্স ডি. বিশ্বাস চারঘাটে বামনদিঘী ওয়ার্ড জামায়াতের গণসংযোগ ছুটির আনন্দ মাটি হতে পারে! হোটেল রুমে ঢুকেই সেরে নিন এই ৫টি কাজ বিশ্বকাপ জয়ের দুই মাস পর স্পেনের কোচের পুরস্কার মিড ডে মিলের দুধ-পাউরুটি খেয়ে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু ঠেকাতে সচেতনতার আহ্বান, চট্টগ্রামে মহিলা সমাবেশ, সমবায় সদস্যদের মাঝে বিতরণ মশারি ডিআইজির হাত থেকে সেরা চোরাচালান উদ্ধারকারী অফিসারের ক্রেস্ট নিলেন মাহমুদুল হাসান আমির হোসেন

ধোপাজান চলতি নদীতে বালু পাথর-লুটপাট বন্ধে ও বৈধ ইজারা দিয়ে নদী চালুর দাবিতে মানববন্ধন।

বিশেষ প্রতিনিধি / ১০২ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬

সুনামগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ধোপাজান চলতি নদী থেকে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন বন্ধ, পরিবেশ রক্ষা এবং প্রশাসনিক অভিযান জোরদারসহ নিয়ম মেনে দ্রুত ইজারা চালুর দাবিতে বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল ১১টায় সুনামগঞ্জ শহরের আলফাত স্কয়ার (ট্রাফিক পয়েন্টে) ‘ধোপাজান চলতি নদী রক্ষা আন্দোলন কমিটি’-এর উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

​সংগঠনের উপদেষ্টা এরশাদ মিয়ার সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব মোহাম্মদ নূরের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন কমিটির আহ্বায়ক গোলাম হোসেন অভি।

​সমাবেশে বক্তব্য প্রদান করেন,
​শেখ এমদাদুল হক উপদেষ্টা,
​আল আমিন যুগ্ম আহ্বায়ক,
​অমিত তালুকদার যুগ্ম আহ্বায়ক,
​আজিজুর রহমান রুহেল যুগ্ম আহ্বায়ক, মোসাদ্দেক হোসেন যুগ্ম আহবায়ক,
​শফিকুল বারী যুগ্ম সদস্য সচিব,
​মুফতী শহীদুল ইসলাম পলাশী সভাপতি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, সুনামগঞ্জ জেলা শাখা,

​সমাবেশে বক্তারা বলেন, ধোপাজান চলতি নদী সুনামগঞ্জের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি। স্থানীয় পরিবেশ রক্ষা ও অর্থনীতিকে সচল রাখতে এ নদীর অবদান অপরিসীম। তবে দীর্ঘ দিন ধরে নদীটির ইজারা বন্ধ থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে একশ্রেণির প্রভাবশালী চক্র রাতের আঁধারে ড্রেজার ও বিভিন্ন ধরনের নৌযান ব্যবহার করে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকার বালু ও পাথর লুটপাট করে আসছে, ​এর ফলে, সরকার শত কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ওপর দিকে নদীপাড়ের বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা মারাত্মক নদীভাঙনের কবলে পড়ার আশংকায় রয়েছে।

​বক্তারা স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বে থাকা সদস্যদের গাফিলতি ও অসাধু চক্রের সাথে যোগসাজশের তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা প্রশ্ন তুলে বলেন, পুলিশের চেকপোস্ট থাকা সত্ত্বেও কীভাবে রাতে বালু ও পাথর ভর্তি নৌকা নদী পার হয়ে যায়।

​এজন্য পুলিশি পাহারা ও নজরদারি নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিয়মিত টাস্কফোর্স, গঠন করে সমন্বিত অভিযান পরিচালনার জোর দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধন থেকে ​জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আন্দোলনের পক্ষ থেকে নিম্নলিখিত সুনির্দিষ্ট দাবিগুলো পেশ করা হয়, ​অবৈধ উত্তোলন বন্ধ, রাতের আঁধারে পরিচালিত পরিবেশ-বিধ্বংসী বালু ও পাথর উত্তোলন অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। আইনানুগভাবে বালুমহাল ইজারা না দেওয়া পর্যন্ত নদীতে সব ধরনের বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ রাখতে হবে।

নদী এলাকায় রাতে প্রশাসনিক টহল জোরদার এবং নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনা করতে হবে।

অবৈধ চক্রের সাথে জড়িত অসাধু ব্যক্তি ও তাদের সহযোগীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি প্রদান করতে হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে যদি দ্রুত কোনো দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে রাষ্ট্রের সম্পদ রক্ষা ও নদীর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ও কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।

​মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে আরও উপস্থিত ছিলেন আলহাজ্ব রহমতুল্লাহ, আলাউর রহমান, মাজহারুল ইসলাম সুবেল, মো. শরীফ, জুলাই যোদ্ধা, আজিজুল হকসহ স্থানীয় শ্রমজীবী মানুষ ও সর্বস্তরের সাধারণ জনগণ।
​মানববন্ধন শেষে আন্দোলনকারীরা ঐতিহ্যবাহী ধোপাজান চলতি নদী রক্ষায় জেলা প্রশাসনসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর