নাটোর জেলা প্রতিনিধি,
নাটোরের গুরুদাসপুরে নারীসহ যুবদল নেতাকে আটক করেছে থানা পুলিশ। বৃহষ্পতিবার বিকালে নারীসহ ওই যুবদল নেতাকে নাটোর জেল হাজাতে পাঠানো হয়েছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল আলম তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
অভিযুক্ত যুবদল নেতার নাম রেজাউল করিম (৪২)| তিনি উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়ন যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর বড় ভাই সামছুল আলম নাজিরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানাগেছে, যুবদল নেতার বাড়ি নাজিরপুর ইউনিয়ন সদরে। বাড়িথেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরের হামলাইকোল গ্রামে এসে বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এক নারীর (৩৮) সাথে তাঁর ঘরেই আমোদফুর্তি করছিলেন। গ্রামের মানুষ দলবদ্ধ হয়ে তাঁদের অবরুদ্ধ করেন। পরে থানা পুলিশ গিয়ে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে আসেন।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, যুবদল নেতা রেজাউল করিম একজন মাদককারবারি। ওই নারীর বাড়িতে নিয়মিত মাদকের আড্ডা বসানো হতো। এতে গ্রামবাসী অতিষ্ট ছিলেন।
পরিস্থিতির বিস্তার ঘটনায় গ্রামের মানুষ জোটবদ্ধ হয়ে প্রথমে মুঠোফোনে ওই নারীসহ যুবদল নেতার কর্মকান্ডের ভিডিও ধারন করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, ওই নারী একটি সিগারেটের মধ্যে গাঁজা ভরছেন। আর যুবদল নেতা কিছু টাকা গুণে ওই নারীকে দিচ্ছেন।
এক পর্যায়ে গ্রামের কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০জন মানুষ দলবদ্ধ হয়ে সেখানে হানা দিয়ে দুজনকে অবরুদ্ধ করেন।পরে গ্রামের শতশত মানুষ এসে তাদের ঘিরে ধরলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ গিয়ে তাদের আটকের পর পরিস্থিতি শান্ত হয়।
এঘটনায় বৃহষ্পতিবার থানা পুলিশের পক্ষে ১৫১ ধারায় তাঁদের আটক দেখিয়ে আদালতে চালান দিলেও কোন মাদক বা নগদ টাকা জব্দ তালিকায় দেখায়নি। এঘটনায় ক্ষুব্ধ গ্রামের মানুষ।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শি মনিরুল ইসলাম ও আলআমিন অভিযোগ করে বলেন, ঘরের ভেতর নারীসহ যুবদল নেতাকে মাদক সেবন এবং বিছানায় মাদকের উপস্থিতি লক্ষ্য করেছি। কিন্তু পুলিশ ঘরের ভেতর ঢুকে কোন আলামতই জব্দ করেনি। শুধু তাঁদের দুজনকে আটক এনেছেন।পুলিশের পক্ষপাতমূলক এমন কর্মকান্ডে ক্ষুব্ধ এলাকার মানুষ।
অভিযোগ সর্ম্পকে ওসি মনজুরুল আলম বলেন, “ গ্রামের মানুষের অভিযোগে নারীসহ ওই যুবদল নেতাকে আটক করলেও সেখানে কোন মাদক পাওয়া যায়নি।একারনে ১৫১ ধারায় তাঁদের আটক দেখানো হয়েছে।
পুলিশের হাতে আটক ওই নারীর বড় বোন রোজী বেগম বলেন, ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাঁর বোনসহ যুবদল নেতাকে ফাঁসানো হয়েছে। অভিযুক্ত রেজাউলের মাধ্যমে তাঁর বোনের কিছু সোনার গহনা বন্ধক রাখা হয়েছিল। সেই টাকার লেনদেন হয়েছে।
যুবদল নেতার বড় ভাই ও নাজিরপুর ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সামছুল হক বলেন, তাঁরা সক্রিয় রাজনীতি করার কারনে কিছু মানুষ তাঁর ভাইকে ফঁসিয়ে দিয়েছেন। আইনগত ভাবে বিষয়টি মোকাবেলা করা হবে।