প্রাইভেট চাকরি থেকে প্রশাসন ক্যাডারে স্বপ্নপূরণ—৪৪তম বিসিএসের ক্যাডার ছেড়ে ৪৫তম বিসিএসে প্রশাসনে অমিত খানের সাফল্য
মিজানুর রহমান, বিশেষ প্রতিবেদন:
অদম্য অধ্যবসায়, সঠিক পরিকল্পনা এবং লক্ষ্য অর্জনের দৃঢ় সংকল্প থাকলে সাফল্য একদিন ধরা দেয়ই। সেই বাস্তবতার উজ্জ্বল উদাহরণ নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর উপজেলার ঝানজাইল গ্রামের মেধাবী তরুণ অমিত খান। প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার পাশাপাশি বিসিএসের প্রস্তুতি নিয়ে তিনি প্রথমে ৪৪তম বিসিএসে ইন্সট্রাক্টর (টেক/ইইই) ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। তবে নিজের স্বপ্ন ছিল প্রশাসন ক্যাডারে কাজ করে দেশের মানুষের সেবা করা। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়েছে ৪৫তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার মাধ্যমে।
অমিত খানের জন্ম ১৯৯৭ সালের ৯ নভেম্বর। তাঁর শৈশব কেটেছে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার ঝানজাইল গ্রামে। তিনি ২০১৩ সালে ময়মনসিংহ জিলা স্কুল থেকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করে এসএসসি পাস করেন। এরপর ঢাকার স্বনামধন্য নটরডেম কলেজ থেকে ২০১৫ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪.৮৩ অর্জন করেন।
উচ্চশিক্ষার জন্য ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)-এর তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক্স কৌশল (EEE) বিভাগে ভর্তি হন। ২০২০ সালে স্নাতক সম্পন্ন করার পর তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান রেনাটা লিমিটেডে চাকরিতে যোগ দেন। চাকরির ব্যস্ততার মধ্যেও বিসিএসের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রেখে নিয়মিত অধ্যয়ন চালিয়ে যান।
তাঁর সেই নিরলস প্রচেষ্টার ফল হিসেবে ৪৪তম বিসিএসে ইন্সট্রাক্টর (টেক/ইইই) ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেও তিনি যোগদান করেননি। কারণ তাঁর লক্ষ্য ছিল প্রশাসন ক্যাডারে দেশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করা। অবশেষে ৪৫তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে তিনি সেই কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন পূরণ করেছেন।
অমিত খান বলেন, “লক্ষ্য যদি স্পষ্ট থাকে, তাহলে ধৈর্য, পরিশ্রম এবং আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে যেকোনো স্বপ্নই অর্জন করা সম্ভব। আমি সবসময় নিজের ওপর বিশ্বাস রেখেছি। আল্লাহর অশেষ রহমত, বাবা-মায়ের দোয়া এবং সবার ভালোবাসায় আজকের এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। ইনশাআল্লাহ খুব শিগগিরই প্রশাসন ক্যাডারে যোগদান করে সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দেশের মানুষের সেবায় কাজ করতে চাই।”
অমিত খানের এই অনন্য সাফল্য নেত্রকোনাসহ দেশের অসংখ্য বিসিএস প্রত্যাশী তরুণ-তরুণীর জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। তাঁর এই অর্জনে পরিবার, শিক্ষক, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের আমেজ বিরাজ করছে। সবাই তাঁর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সফল কর্মজীবনের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন।