মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ০৯:৫৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহীর পবায় ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে অর্ধকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ দোয়ারাবাজারে ইরারর বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শনে ইউএনও অরূপ রতন সিংহ লাকসামে নারী উদ্যোক্তাদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত বালিয়াডাঙ্গীতে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধন পীর গঞ্জ পৌর জগথা লাচ্ছি ব্রীজ সংলগ্ন এলাকায় বহুতলা ভবন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে ভবন নির্মাণ কাজ চলছে তাড়াশে দুই সাংবাদিক হামলার শিকার,থানায় অভিযোগ ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের হেনস্তার প্রতিবাদে বাঁশখালীতে মানববন্ধন পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা বন্ধ ও মর্যাদা-নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি দুর্গাপুরে সরকারি চালের কার্ড চাওয়ায় শিশুসহ বৃদ্ধাকে মারপিট, দুই নারী হাসপাতালে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে বাঁধনের বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন রাজশাহী মহানগরীতে যুবককে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ; গ্রেপ্তার ২

রাজশাহীর পবায় ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে অর্ধকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

প্রতিবেদকের নাম / ১৫ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬

মোঃ সুজন আহাম্মেদ বিভাগীয় চিফ রাজশাহী

রাজশাহীর পবা উপজেলার বড়গাছি ইউনিয়নে ভুয়া ও নামসর্বস্ব উন্নয়ন প্রকল্প দেখিয়ে প্রায় অর্ধকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ভারপ্রাপ্ত ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দীনের বিরুদ্ধে। প্রকল্পসংক্রান্ত নথিপত্র বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য উঠে এসেছে বলে দাবি স্থানীয়দের। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা তজিবুর রহমান, শামসুল ইসলাম ও সোহেল রানা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। গত ২৪ এপ্রিল দেওয়া অভিযোগপত্রে তারা উল্লেখ করেন, বিভিন্ন ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে সরকারি অর্থ লোপাট করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, দাদপুর গফুরের বাড়ি থেকে বড়পুকুর পর্যন্ত রাস্তার কাজের নামে ২ লাখ টাকা, দাদপুর জোনাবের বাড়ি থেকে মুকুলের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার নামে ২ লাখ টাকা এবং বাগিচাপাড়া ময়নার বাড়ি থেকে শহিদুলের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার নামে আরও ২ লাখ টাকা আত্মসাত করা হয়েছে।
এছাড়া দাদপুর চকপাড়া মিলনের বাড়ি থেকে শহিদুলের বাড়ি পর্যন্ত সিসি ঢালাইয়ের নামে ২ লাখ টাকা, বাগিচাপাড়া আসাদুলের বাড়ি থেকে ইদ্রিসের বাড়ি পর্যন্ত সিসি ঢালাইয়ের নামে আরও ২ লাখ টাকা এবং দাদপুর দাখিল মাদ্রাসায় বেঞ্চ ও ফ্যান সরবরাহের নামে ৫২ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে।
নথিপত্র বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, বীরগোয়ালিয়া গ্রামের বাবুলের বাড়ি থেকে ‘দিপু মাস্টারের বাড়ি’ পর্যন্ত রাস্তা মাটি ভরাটের কাজ দেখিয়ে ৭ লাখ ৫ হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। তবে সরেজমিন অনুসন্ধানে ওই এলাকায় ‘দিপু মাস্টার’ নামে কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল আজিজ বলেন, এই গ্রামে দিপু মাস্টার নামে কোনো ব্যক্তি নেই। একই গ্রামের বাসিন্দা ও বড়গাছি ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি গাজিয়ার রহমান বলেন, এখানে কোনো মাটি ভরাটের কাজ হয়নি। ৭ লাখ টাকার মাটি ফেললে রাস্তার এমন অবস্থা থাকার কথা নয়।
অভিযোগ অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইউনিয়নটিতে গত বছরের ২৪ মার্চ ১৮ লাখ ৫২ হাজার টাকা, ২ জুন ১৬ লাখ ৮৪ হাজার টাকা এবং ১৮ নভেম্বর ১০ লাখ ১০ হাজার ৪০০ টাকা বরাদ্দ আসে। অভিযোগ রয়েছে, কোথাও নামমাত্র কাজ করে আবার কোথাও কোনো কাজ না করেই বিল উত্তোলন করা হয়েছে। এভাবে কাগুজে প্রকল্প দেখিয়ে মোট ৪৫ লাখ ৪৬ হাজার ৪০০ টাকা আত্মসাত করা হয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
জানা গেছে, হেলাল উদ্দীন বড়গাছি ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য। গত বছরের ২৫ জানুয়ারি তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর থেকেই বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দীন বলেন, আমার কোনো প্রকল্পে অনিয়ম হয়নি। সব কাজ নিয়ম মেনেই করা হয়েছে। ভুয়া প্রকল্প থাকলে সেটা আমার দায়িত্ব নেওয়ার আগের হতে পারে।
এ বিষয়ে পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইবনুল আবেদীন বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর