বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:০২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
জুলাই–আগস্ট আন্দোলনের পর সহিংসতায় প্রাণহানি: ধর্ষণ, নির্যাতন ও মব সহিংসতা গভীর উদ্বেগজনক সরিষাবাড়ীতে স্বাস্থ্য  বীমা দাবীর চেক হস্তান্তর ও গ্রাহক সমাবেশ অনুষ্ঠিত  সুনামগঞ্জ শহরের আলোচিত প্রায় অর্ধ কোটি টাকা স্বর্ণ ও ডলার চুরি মামলার রহস্য উদঘাটন আটক-৫ ‎ বিশ্ব পৃথিবী দিবসে শেরপুরে স্বেচ্ছাসেবীদের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি!  শহীদ এম. মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের নাম পরিবর্তনের প্রতিবাদে লন্ডন থেকে সোহেল সরকারের তীব্র নিন্দা দোয়ারাবাজারে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির দায়ে ব্যবসায়ীকে জরিমানা কারমাইকেল কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও সিনিয়র আইনজীবী রেজেকা সুলতানা ফেন্সি সংসদ সদস্য মনোনীত ইসলামপুরে নির্যাতনের শিকার সেলিম বাবুর অবস্থা আশঙ্কাজনক!যে কোন সময় পাওয়া যেতে পারে অনাকাঙ্ক্ষিত সংবাদ সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির ৩৬ নেত্রীর সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির ৩৬ নেত্রীর মনোনয়ন ঘোষণা, রাজশাহী থেকে মাহমুদা হাবিবা। খানসামায় মসজিদের বাউন্ডারি ওয়াল ভাঙচুর ও দখলের অভিযোগ, এলাকায় উত্তেজনা

সরিষাবাড়ীতে ছাত্রীর সঙ্গে শিক্ষকের পরকীয়া ও গোপন বিয়ে, ফুঁস উঠেছে জনতা

জিয়াউল ইসলাম জিয়া বার্তা সম্পাদক / ৮০ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী, ২০২৬

মাসুদ রানা জামালপুর প্রতিনিধি :

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে যমুনা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর সাথে পরকীয়া ও গোপনে বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম মুশফিকুর রহমান লিটন, যিনি বিদ্যালয়টির আইসিটি বিভাগে কর্মরত। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার দুপুরে স্কুল চলাকালীন সময় স্থানীয় লোকজন বিদ্যালয়ে গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে ওই বিয়ের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তোপের মুখে পড়ে একপর্যায়ে তিনি বিদ্যালয় ত্যাগ করতে বাধ্য হন।
অভিযুক্ত শিক্ষক মুশফিকুর রহমান লিটন সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর উপজেলার গুজাবাড়ি গ্রামের তোতা মিয়ার ছেলে। তিনি এনটিআরসিএ-র মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক। জানা গেছে, তিনি বিবাহিত এবং তার দুই বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বর্তমানে তার প্রথম স্ত্রীর সাথে পারিবারিক কলহের জেরে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।

শিক্ষক লিটনের প্রথম স্ত্রী কানিজ ফাতেমা অভিযোগ করেন, ওই ছাত্রীর সাথে অনৈতিক সম্পর্কের জের ধরেই তার সাথে পারিবারিক অশান্তি শুরু হয়। মামলা চলমান থাকা অবস্থাতেই তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক ওই শিক্ষার্থীকে গোপনে বিয়ে করেছেন বলে স্ত্রী দাবি করেন।
এদিকে, শিক্ষার্থীর নানা পরিবারের সদস্য আলহাজ্ব আব্দুর রশীদ জানান, তাদের পরিবারকে না জানিয়ে গোপনে এই বিয়ে সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি একে সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয় হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানান। স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, বিয়ের পর ছাত্রীকে উপজেলার গোয়াখাড়া এলাকায় এক আত্মীয়ের বাসায় রাখা হয়েছে।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর বিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ইমন, হাসান ও সুমন মিয়াসহ দশম শ্রেণির একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, শিক্ষকের কাছ থেকে এমন আচরণ তারা প্রত্যাশা করে না। নৈতিক স্খলনের দায়ে তারা অভিযুক্ত শিক্ষকের অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। একই দাবি তুলেছেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাও।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মুশফিকুর রহমান লিটন তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বিষয়টিকে তার বিরুদ্ধে “ষড়যন্ত্র” এবং “মিথ্যা প্রচারণা” বলে দাবি করেন।
যমুনা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ জানান, “এলাকাবাসীর মৌখিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে পরিস্থিতি সামাল দিতে ওই শিক্ষককে আপাতত তিন দিনের ছুটি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং শিক্ষা অফিসারকে অবহিত করেছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এবিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অনুপুস্থিতিতে একাডেমিক সুপারভাইজার রুহুল আমিন বেগ বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইতিমধ্যে বিষয়টি অবগত করেছেন। ঊর্ধতনের সাথে কথা বলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।

বর্তমানে বিদ্যালয় এলাকায় এ নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সচেতন মহল মনে করছেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কের পবিত্রতা রক্ষায় প্রশাসনের দ্রুত ও নিরপেক্ষ হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর