স্বপ্ন থেকে সাফল্যে: ৪৬তম বিসিএসে প্রশাসন, ৪৭তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে মেধার স্বাক্ষর হাসান মাহমুদ তুর্য্য
মিজানুর রহমান,বিশেষ প্রতিবেদন:অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস এবং লক্ষ্য অর্জনের অদম্য প্রত্যয়—এই চারটি গুণের অনন্য সমন্বয়ে বিসিএসে ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছেন নেত্রকোনার কৃতি সন্তান হাসান মাহমুদ তুর্য্য। তিনি ৪৬তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে (মেধাক্রম: ১১১) সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর সদ্য ঘোষিত ৪৭তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে সারাদেশে মেধাক্রমে তৃতীয় স্থান অর্জন করে নিজের অসাধারণ মেধা, যোগ্যতা ও অধ্যবসায়ের উজ্জ্বল স্বাক্ষর রেখেছেন।
শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই সাফল্য ছিল তাঁর নিত্যসঙ্গী। ২০১৪ সালে আঞ্জুমান আদর্শ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেন। এরপর ২০১৬ সালে নটরডেম কলেজ, ময়মনসিংহ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনের পাশাপাশি ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের বৃত্তি লাভ করেন। পরবর্তীতে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (EEE) বিভাগে ৩.৬০ সিজিপিএ নিয়ে বিএসসি সম্পন্ন করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তিনি শুধু একাডেমিক সাফল্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। পড়াশোনার পাশাপাশি সঙ্গীতচর্চা, ক্রিকেট এবং বিতর্ক—প্রতিটি ক্ষেত্রেই সমান দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। সহশিক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ তাঁর নেতৃত্ব, আত্মবিশ্বাস ও ব্যক্তিত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
প্রকৌশল শিক্ষার্থী হিসেবে গবেষণার প্রতিও ছিল তাঁর গভীর আগ্রহ। তিনি বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-সম্পর্কিত গবেষণায় যুক্ত ছিলেন এবং স্লিপ অ্যাপনিয়া (Sleep Apnea) বিষয়ক একটি গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক সম্মেলনে উপস্থাপনের জন্য জমা দিয়েছেন, যা তাঁর গবেষণামুখী চিন্তাভাবনার পরিচায়ক।
সাফল্যের পেছনে পরিবারের অবদানও অনস্বীকার্য। তাঁর বাবা টি.কে. গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ-এর একজন এরিয়া ম্যানেজার। আর মা একজন গৃহিণী হলেও জীবনের শুরুতে শিক্ষকতা করেছেন এবং একসময় সেলাইয়ের কাজও করেছেন। সংসারের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সন্তানের পড়াশোনার প্রতিটি ধাপ তিনি অত্যন্ত যত্ন ও নিষ্ঠার সঙ্গে সামলেছেন। তাঁর সেই ত্যাগ, শ্রম ও অনুপ্রেরণাই হাসান মাহমুদ তুর্য্যের সাফল্যের অন্যতম শক্তি।
৪৬তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও তিনি থেমে থাকেননি। আরও ভালো করার প্রত্যয়ে নিরলস প্রস্তুতি চালিয়ে যান। সেই প্রচেষ্টারই ফলস্বরূপ ৪৭তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে সারাদেশে মেধাক্রমে তৃতীয় স্থান অর্জন করে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেন।
হাসান মাহমুদ তুর্য্যের এই সাফল্য শুধু তাঁর পরিবারের জন্য নয়, নেত্রকোনা জেলার জন্যও গর্বের। তাঁর জীবনগল্প প্রমাণ করে—পরিশ্রম, শৃঙ্খলা, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং আত্মবিশ্বাস থাকলে যেকোনো স্বপ্নই বাস্তবে রূপ নেওয়া সম্ভব। তাঁর এই অর্জন দেশের অসংখ্য তরুণ-তরুণীকে স্বপ্ন দেখতে, সংগ্রাম করতে এবং নিজের লক্ষ্যে অবিচল থাকতে অনুপ্রাণিত করবে—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।