মিজানুর রহমান, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি:
শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী ইউনিয়নের সারিকালিনগর (বালুরচর) গ্রামের মানুষের জন্য বর্ষা মৌসুম যেন দুর্ভোগের আরেক নাম। সামান্য বৃষ্টি হলেই পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায় গ্রামের প্রধান সড়ক। ফলে সাধারণ মানুষের চলাচল হয়ে পড়ে অত্যন্ত কষ্টসাধ্য এবং ঝুঁকিপূর্ণ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাটিয়াপাড়া ফিডার রোড থেকে বালুরচর হয়ে গজারমারি বিল পর্যন্ত প্রায় ৩.২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ আইডিভুক্ত (আইডি নং- ৩৮৯৩৭৪০১৪) সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও উন্নয়নের অপেক্ষায় রয়েছে। বর্ষা এলেই সড়কের বিভিন্ন অংশ পানির নিচে তলিয়ে যায়, ফলে রাস্তার অস্তিত্ব পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
এ কারণে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে, আর জরুরি প্রয়োজনে রোগীদের হাসপাতালে নেওয়াও হয়ে উঠছে অত্যন্ত দুরূহ।
গ্রামবাসীদের ভাষ্য, বৃষ্টি শুরু হলেই সড়কটি পানিতে ডুবে যায়। তখন শিশু, বৃদ্ধ ও নারীদের চলাচল সবচেয়ে বেশি কষ্টকর হয়ে পড়ে। বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পৌঁছাতে তাদের নানামুখী সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আজাদ মিয়া নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দ্রুত পাকাকরণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। রাস্তা পাকা হলে শুধু বালুরচর গ্রামের মানুষ নয়, আশপাশের এলাকার হাজারো মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে এবং দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে।”
এলাকাবাসীর দাবি, নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করবেন। তাদের মতে, এই সড়কের উন্নয়ন কেবল একটি অবকাঠামোগত কাজ নয়; বরং এটি হাজারো মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
সংশ্লিষ্ট মহলের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে সারিকালিনগর (বালুরচর) এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের এই প্রত্যাশা পূরণ হবে—এমনটাই আশা