মোঃ শামসুজ্জোহা
তাড়াশ প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে হাঁস-মুরগি রক্ষায় শিয়াল মারার জন্য বসানো বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে প্রাণ হারিয়েছেন আফরোজা খাতুন (২৭) নামে এক গৃহবধূ। এ ঘটনায় তার আট বছর বয়সী ছেলেসহ প্রতিবেশী আরেক শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। আহত দুই শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার তাড়াশ সদর ইউনিয়নের মথুরাপুর গ্রামে এ হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আফরোজা খাতুন ওই গ্রামের মো. শামীম হোসেনের স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বসতবাড়ির হাঁস-মুরগিকে শিয়ালের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে বৃহস্পতিবার রাতে খোয়ারের দরজায় জিআই তার পেঁচিয়ে তাতে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে রাখেন আফরোজা খাতুন। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে তার আট বছর বয়সী ছেলে খোয়ারের দরজা খুলতে গেলে বিদ্যুতায়িত তারে জড়িয়ে পড়ে। ছেলেকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হতে দেখে তাকে রক্ষায় ছুটে যান মা আফরোজা। এ সময় তিনিও বিদ্যুতের সংস্পর্শে এসে গুরুতর আক্রান্ত হন। মা-ছেলেকে বিপদে পড়তে দেখে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসে প্রতিবেশী আরেক শিশু। সেও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়।
একপর্যায়ে প্রতিবেশীরা বিষয়টি বুঝতে পেরে দ্রুত বিদ্যুতের মূল সুইচ বন্ধ করেন। পরে তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই পথিমধ্যে মারা যান আফরোজা খাতুন। গুরুতর আহত দুই শিশুকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
নিহত ও আহতদের স্বজন এবং স্থানীয় কলেজশিক্ষক মো. দুলাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত দুই শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এ বিষয়ে তাড়াশ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শাহআলম জানান, এ ধরনের কোনো দুর্ঘটনার খবর এখন পর্যন্ত পুলিশকে কেউ জানাননি।
হাঁস-মুরগি রক্ষায় শিয়ালের উপদ্রব ঠেকাতে বসানো বৈদ্যুতিক ফাঁদ শেষ পর্যন্ত কেড়ে নিল একটি প্রাণ, গুরুতর ঝুঁকিতে ফেলল দুটি শিশুকে। এমন দুর্ঘটনা এড়াতে খোলা বা অনিরাপদ বৈদ্যুতিক তার ব্যবহার না করার বিষয়ে সচেতনতার গুরুত্ব আবারও সামনে এসেছে।