রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:০৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
আমির সুলতান এন্ড দিল-নেওয়াজ বেগম হাই স্কুলে জাঁকজমকপূর্ণ পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান রুমায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে কোনো অপকর্ম ঠেকাতে বিজিবি’র কুইক রেসপন্স ফোর্স প্রস্তুত আছে। কুন্দপুকুর ইউনিয়নে গণসংযোগে ব্যস্ত স্বতন্ত্র প্রার্থী মিনহাজুল ইসলাম মিনহাজ তাহিরপুরের আনন্দবাজারে জামায়াতে ইসলামীর পথসভা ও মিছিল। অটিজম কাউন্সেলিং চাইল্ড কেয়ারের নব যাত্রায় অনুষ্ঠান ২০২৬ অনুষ্ঠিত ঢাকা-১৯ আসনে বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মনোনীত শ্রমিক নেতা কামরুল ইসলাম মৃধা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন দাবি বিএনএ’র শেরপুরে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ! নাটোরে নানা আয়োজনে চ্যানেল এস’র বর্ষপূর্তি উদযাপন সিরাজগঞ্জ ৫ আসনের বিএনপি প্রার্থীর বেলকুচি প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়।

দানবাক্স নয়, মানুষের দানেই ৫ হাজারের তাবারুক—ঝিনঝি ফকির শাহ (রহঃ) মাজারে নতুন ইতিহাস

জিয়াউল ইসলাম জিয়া বার্তা সম্পাদক / ২৭ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী, ২০২৬

মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ২নং সাধনপুর ইউনিয়নের বৈলগাঁও এলাকায় অবস্থিত হযরত ঝিনঝি ফকির শাহ (রহঃ) মাজারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের সহিংসতা, মামলা-মোকদ্দমা ও দানবাক্সকেন্দ্রিক বিরোধের অবসান ঘটিয়ে এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বর্তমান কমিটি।

এবার আর কোনো দানবাক্স নয়, রাস্তার কালেকশনও নয়—সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে আয়োজন করা হয় প্রায় ৫ হাজার মানুষের তাবারুক। এই ব্যতিক্রমী আয়োজন এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং সাধারণ মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

উল্লেখ্য, এই মাজারকে কেন্দ্র করে অতীতে দানবাক্সের টাকা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ভাঙচুর এবং দীর্ঘস্থায়ী আইনি জটিলতা তৈরি হয়। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়েছিল যে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ ও বিভক্তি সৃষ্টি হয়।

বর্তমান কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর সাধারণ মানুষের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়—মাজারে আর কোনো দানবাক্স থাকবে না। সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেই এবারের ওরশ উপলক্ষে আয়োজন করা হয় বৃহৎ তাবারুক বিতরণ।
এই আয়োজনে মুসলিম সম্প্রদায়ের পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন, যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন,
“দানবাক্সকে কেন্দ্র করেই এতদিন ঝগড়া-ফ্যাসাদ ছিল। এবার দানবাক্স ছাড়া আয়োজন করে প্রমাণ করা হয়েছে—ইমান ও বিশ্বাস টাকা দিয়ে নয়, মানুষের মন দিয়েই গড়ে ওঠে।”
বর্তমান কমিটির একজন সদস্য জানান,
“আমরা চেয়েছি মাজার যেন আর ব্যবসার জায়গা না হয়। স্বচ্ছতা থাকলে মানুষ এমনিতেই পাশে দাঁড়ায়—এই আয়োজন তার প্রমাণ।”

এলাকাবাসীর মতে, এই উদ্যোগ শুধু একটি সফল আয়োজনই নয়, বরং ভবিষ্যতে মাজারকেন্দ্রিক সহিংসতা বন্ধের পথও দেখিয়েছে। দানবাক্সবিহীন এই আয়োজন এখন বাঁশখালীজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর