রাজশাহী ব্যুরো:
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার জাহানাবাদ ইউনিয়নের তশোপাড়া গ্রামে বর্তমানে সার ডিলার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আশরাফুল আলম। এরই মধ্যে একই এলাকায় নতুন করে সার ডিলার হতে আবেদন করেছেন তার শ্যালক ফিরোজ আলম। ফলে একই এলাকায় নতুন ডিলার নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা, আবেদনকারীর যোগ্যতা এবং বর্তমান ডিলারের সঙ্গে তার পারিবারিক সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ ঘটনায় গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাজশাহী জেলা প্রশাসক ও জেলা সার-বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি কাজী শহিদুল ইসলামের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তাজ উদ্দিন। তিনি মোহনপুর উপজেলার ৬ নম্বর জাহানাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। অভিযোগে বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
আবেদন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার তশোপাড়া গ্রামে আশরাফুল আলম সার ডিলার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এরই মধ্যে একই গ্রামের ফিরোজ আলম নতুন করে ওই এলাকায় সার ডিলার হওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। তবে সূত্র বলছে, আশরাফুল ও ফিরোজ শালা-দুলাভাই। একই এলাকায় একজন ডিলার থাকা সত্বেও নতুন ডিলার নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন আবেদনকারী।
আবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ফিরোজ আলমের বড় ভাই রুহুল রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে করে সংশ্লিষ্ট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে ম্যানেজ ও চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে ফিরোজ আলমের সার ডিলার নিয়োগের আবেদন ও তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে অতীতে একাধিক মামলা ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০১২ সালে মতিহার থানায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের এজাহার নামীয় আসামী ও ২০১৮ সালে স্কয়ার কোম্পানীর কেমিক্যাল চুরির অপরাধে গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানায় একটি মামলার আসামি হিসেবে ছিল। এই মামলায় এই রুহুল আমিন কারাবাসও করেছেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
আবেদনকারী জেলা প্রশাসকের নিকট জানতে চেয়েছেন, নতুন ডিলার নিয়োগের জন্য সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয়তা ও সুযোগ রয়েছে কি না। একই সঙ্গে বর্তমান ডিলারের মাধ্যমে এলাকার কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত সার সরবরাহ করা হচ্ছে কি না এবং নতুন আবেদনকারী নির্ধারিত যোগ্যতা ও শর্ত পূরণ করেছেন কি না, তা তদন্তের দাবি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ফিরোজ আলম ও আশরাফুল আলমের অভিযোগের সত্যতা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব। তবে রুহুল আমিনের চাপ প্রয়োগের ব্যাপার অস্বীকার করেছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম। কামরুল ইসলাম জানান, আবেদন যে কেউ করতে পারবে। যথাযথ প্রক্রিয়ার বাইরে নিয়োগ পাওয়ার সুযোগ নাই। যেহেতু আপনি বলছেন জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ হয়েছে, তাহলে বিষয়টি আরও গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে।
এবিষয়ে জেলা প্রশাসক ও সার বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি কাজী শহিদুল ইসলাম এর মুঠোফোনে কল করা হলে কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। তাই তদন্তের কোন তথ্য বা সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।