বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট বাঁশখালী উপজেলার আওতাধীন ২নং সাধনপুর ইউনিয়ন শাখার আহ্বায়ক এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা বাঁশখালী উত্তর শাখার সাবেক সহ-সভাপতি হাফেজ মুহাম্মদ তমিজ উদ্দিনের পিতা আবুল কাশেমের জানাজা নামাজে বিপুল সংখ্যক মুসল্লীর অংশগ্রহণে এক হৃদয়বিদারক ও শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
মরহুম আবুল কাশেম একজন ধর্মপ্রাণ, সৎ, আল্লাহভীরু ও নীরব সমাজসেবক হিসেবে এলাকায় সুপরিচিত ছিলেন। তাঁর ইন্তেকালে পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসীর মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।
জানাজা নামাজে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, আলেম-ওলামা, জনপ্রতিনিধি, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং সর্বস্তরের মুসল্লীগণ অংশগ্রহণ করেন। জানাজা শেষে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ মরহুম আবুল কাশেমের ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান। বক্তারা বলেন, মরহুম ছিলেন একজন নিরহঙ্কার, সদালাপী ও মানবিক গুণসম্পন্ন মানুষ। তাঁর মৃত্যু এলাকাবাসীর জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি ও শূন্যতার সৃষ্টি করেছে।
বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা এবং সংশ্লিষ্ট সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের পক্ষ থেকে এক যৌথ শোকবার্তায় মরহুম আবুল কাশেমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। শোকবার্তায় বলা হয়—
“আমরা গভীর শোক ও দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট বাঁশখালী উপজেলার আওতাধীন ২নং সাধনপুর ইউনিয়ন শাখার আহ্বায়ক হাফেজ মুহাম্মদ তমিজ উদ্দিনের সম্মানিত পিতা আবুল কাশেম ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আমরা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে দোয়া করছি—তিনি যেন মরহুমকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মাকাম দান করেন। একই সঙ্গে শোকাহত পরিবার-পরিজনকে এই শোক সহ্য করার তাওফিক দান করেন।”
শোকবার্তায় মরহুমের পরিবারবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয় এবং সকলকে মরহুমের জন্য দোয়া করার আহ্বান জানানো হয়।
উল্লেখ্য, মরহুম আবুল কাশেম চার ছেলে ও চার মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও আত্মীয়স্বজন রেখে গেছেন। তাঁর সন্তানদের মধ্যে হাফেজ মুহাম্মদ তমিজ উদ্দিন একজন সুপরিচিত দ্বীনি ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব। তিনি ২০১৫ সালে পূর্ব বৈলগাঁও এলাকায় “আহলে বাইতে রাসূল ﷺ সুন্নিয়া মাদ্রাসা হেফজখানা ও এতিমখানা” নামে একটি সুন্নী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন, যা বর্তমানে এলাকার দ্বীনি শিক্ষা ও এতিম শিশুদের লালন-পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
মরহুম আবুল কাশেমের ইন্তেকালে পুরো এলাকায় এক শোকস্তব্ধ পরিবেশ বিরাজ করছে।