মিজানুর রহমান, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি:
শেরপুরের শ্রীবরদীতে রাস্তা প্রশস্তকরণ কাজটি দীর্ঘ ১৮ মাস ফেলে রেখে লাপাত্তা হয়েছে ঠিকাদার। ফলে জনদুর্ভোগ এখন চরমে পৌঁছেছে। ঠিকাদার লাপাত্তা হওয়ায় সড়কটির বেহাল দশায় যানবাহন ও লোকজন চলাচলে প্রায়শই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।
অপরদিকে কাজ ফেলে ঠিকাদার লাপাত্তা হলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের থেকে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কি যেন অদৃশ্য শক্তির ইশারায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের শ্রীবরদী উপজেলার ঝগড়ার চর বাজার হতে হেরুয়া বাজার পর্যন্ত সাড়ে ৩ কিলোমিটার বেহাল সড়ক প্রশস্তকরণের ঠিকা পাওয়া লাপাত্তা ঠিকাদার ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর কাজ ফেলে পালিয়ে যাওয়ার দীর্ঘ ১৮ মাসেও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি কেন তাও রহস্যজনক। সড়কটি বর্তমানে আরো ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্রে জানা যায়, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বরেন্দ্র কন্সট্রাকশন ৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকায় ২০২৩ সালে সড়কটি উন্নয়ন কাজ শুরু করেছিল। জানা গেছে যে, কাজটির ঠিকা বরেন্দ্র কন্সট্রাকশনের নামে হলেও কাজ বাগিয়ে নেন পলাতক স্হানীয় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতারা।
কাজ শুরুর ক’মাস পর সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে না জানিয়েই বন্ধ করে দেয় সড়কের কাজ। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের অনেক চেষ্টা করেও কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা প্রতিনিধিকে জানান, ওই সড়ক পথে চলাচলে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। দিনের বেলায় সাবধানে চলাচল করা গেলেও রাতে সড়কটি হয়ে উঠে বিপজ্জনক। সরু রাস্তায় একসাথে দুইটি গাড়ী পারাপারে রাস্তার পাশে জায়গা না থাকায় ঘটছে ছোট-বড় দূর্ঘটনা।
স্হানীয় অটোরিকশা চালক সাইফুল মিয়া জানান, প্রায় দেড় বছর থেকে সড়কটি যেন মুর্তি মান আতঙ্ক! কখন কার কপালে কি ঘটে আল্লাহই ভালো জানেন! ভাঙা এই সড়কে গাড়ি চালানোয় তাদের গাড়িও নষ্ট হচ্ছে। গাড়ি ভেঙ্গে ও আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, সড়কে প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটেছে। লোকজন শান্তিমত বাজারে যাতায়াত করতে ও পারছেন না। সড়কটি দ্রুত নির্মাণের দাবি জানান তিনি।
কৃষক আমের আলী বলেন, আমরা কৃষক মানুষ, ধান ও শাক-সবজি আবাদ করে সংসার চালাই। উৎপাদিত ফসল বিক্রি করতে বাজারে নিয়ে যেতে হয়। রাস্তা খারাপ থাকায় ভ্যান ভাড়া অনেক বেশি দিতে হচ্ছে। এতে তাঁরা ক্ষতি গ্রস্থ কৃষকের লাভ কম হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এদিকে জনভোগান্তি কমাতে নতুন ঠিকাদার দিয়ে সড়কটির কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ ব্যাপারে শ্রীবরদী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী মশিউর রহমান প্রতিনিধিকে বলেন, ‘শ্রীবরদী উপজেলার ঝগড়ারচর থেকে শেরপুরের সড়কটির কাজের ঠিকাদার দীর্ঘদিন পলাতক রয়েছে বলে জানা গেছে। ওই ঠিকাদারদের চূড়ান্ত নোটিশও দেয়া হয়েছে।
এছাড়াও জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী ইতোমধ্যেই হেড কোয়ার্টারে সুপারিশ করেছেন। অনুমোদন আসলে ঠিকা বাতিল করে টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ শুরু করা হবে।