সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:০২ অপরাহ্ন
শিরোনাম
মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ সাবেক বিএনপি নেতা আজিজ উদ্দিনের পরিবার উদ্বিগ্ন রূপগঞ্জে ধানের শীষের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারনা করেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দীপু রংপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে নতুন অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ ওবায়দুল আনোয়ারের যোগদান মহাদেবপুরে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু দুলাল মার্কেটে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে নারী ব্যবসায়ী নিহত বদলগাছীতে বিএনপি’র নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত প্রাণবন্ত আয়োজনে আদর্শ সংগীত বিদ্যালয় শ্রীমঙ্গলের বার্ষিক সাংস্কৃতিক পরীক্ষার সনদ পেল ৪ শতাধিক শিক্ষার্থী, শিক্ষকদের সম্মাননা সিরাজগঞ্জ–৫ আসনে ভোটের লড়াই তুঙ্গে: মাঠ জরিপে ধানের শীষ এগিয়ে, দাঁড়ি পাল্লার অবস্থান নড়বড়ে ‎সুনামগঞ্জ সদর থানা পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযানে ভারতীয় বিড়িসহ ২ জন আটক শেরপুরে গ্রন্থাগার দিবস উপলক্ষে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত 

মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ সাবেক বিএনপি নেতা আজিজ উদ্দিনের পরিবার উদ্বিগ্ন

জিয়াউল ইসলাম জিয়া বার্তা সম্পাদক / ৮ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের রাউজান থানায় দায়ের করা একটি ফৌজদারি মামলাকে কেন্দ্র করে বিএনপি অঙ্গসংগঠনের এক নেতাকর্মীকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে।অভিযোগকারীদের দাবি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের নির্দেশে পুলিশ পাহারায় ও কার্যত ঘরবন্দি থাকা অবস্থায় থেকেও তাঁকে একটি গুরুতর মামলার আসামি করা হয়েছে।বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনীতি সচেতন মহল এবং মানবাধিকার সংশ্লিষ্টদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬০ ধারা মোতাবেক জারি করা নোটিস পর্যালোচনা করে জানা যায় সি আর মামলা নং ৮৮৬ ২৫ রাউজান তারিখ ০৩ ১২ ২৫ ইং মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩ ১৪৭ ১৪৯ ৩৮৫ ৪৪৭ ৪৪৮ ৩৬৫ ৩৬৭ ৩৪১ ৩২৩ ৩২৪ ৩২৫ ৩০৭ ৫০৬ ২ ৩৪ ধারায় মোট ৯ জনকে বিবাদী করা হয়েছে। মামলার বাদী আজম উদ্দীন। মামলার বিবাদীদের তালিকায় ৭ নম্বর আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে মোহাম্মদ আজিজ উদ্দিনকে। মামলার ধারাগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় এগুলো অত্যন্ত গুরুতর এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জামিন অযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।

মোহাম্মদ আজিজ উদ্দিন পিতা আব্দুল কাদের মাতা মরিয়ম বেগম। তাঁর বর্তমান ঠিকানা হামদু মিয়ার বাড়ি খন্দকার পাড়া ৩ নং ওয়ার্ড বায়েজিদ চট্টগ্রাম। রাজনৈতিক পরিচয়ের দিক থেকে তিনি বিএনপির অঙ্গসংগঠনের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত। তিনি সাবেক সহ সভাপতি জিয়া সাইবার ফোর্স চট্টগ্রাম মহানগর এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল বায়েজিদ থানা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।দলীয় সূত্র জানায় তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি আন্দোলন ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে নিয়মিতভাবে যুক্ত ছিলেন।

পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী আজিজ উদ্দিন দীর্ঘ সময় ধরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের নির্দেশনায় পুলিশ পাহারায় আছেন এবং কার্যত ঘরবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।যে সময়ের ঘটনার উল্লেখ করে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে সেই সময় তিনি বাড়ির বাইরে যাওয়ার সুযোগ পাননি।পরিবারের সদস্যরা বলছেন ঘটনার সময় তিনি কোথায় ছিলেন তা প্রমাণ করার মতো সাক্ষী ও তথ্য থাকা সত্ত্বেও তাঁকে মামলায় আসামি করা হয়েছে যা স্পষ্টভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

 

অনুসন্ধানে জানা যায় আজিজ উদ্দিন ও তাঁর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে কিছু স্থানীয় ও বহিরাগত প্রভাবশালী গোষ্ঠীর চাপে আছেন।পরিবারের দাবি ওই গোষ্ঠীটি রাজনৈতিকভাবে তাদের নিয়ন্ত্রণে আনতে চেয়েছিল। বিশেষ করে বিএনপির সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল।পরিবার সেই চাপ প্রত্যাখ্যান করায় একের পর এক হয়রানি মামলা হুমকি ও ভয়ভীতি শুরু হয় বলে অভিযোগ।

পরিবার আরও অভিযোগ করে জানায় আজিজ উদ্দিনের একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন সময় দখল করে নেওয়া হয়েছে।ব্যবসা দখলের ঘটনায় থানায় অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ পাওয়া যায়নি বলে তারা দাবি করেন।বরং উল্টোভাবে আজিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধেই মামলা ও অভিযোগ বাড়তে থাকে।স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধের সূত্র ধরেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার রূপ নেয় পুরো পরিস্থিতি।

আজিজ উদ্দিন বলেন তিনি প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছি। কখনো ফোনে কখনো লোক পাঠিয়ে তাকে ভয় দেখানো হচ্ছে।তিনি দাবি করেন তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি শুধু আইনি হয়রানি নয় বরং তাকে মানসিকভাবে ভেঙে ফেলার একটি কৌশল।তিনি বলেন যে কোনো সময় তার ওপর হামলা বা হত্যার ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি এবং তার পরিবার শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।

অনুসন্ধানে উঠে আসে আরও একটি ভয়াবহ তথ্য। আজিজ উদ্দিনের বড় ভাই সারোয়ার বাবলা কিছুদিন আগে এলাকায় একটি নির্বাচনী গণসংযোগে অংশ নিতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন।পরিবারের দাবি ওই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এখনো হয়নি।তারা মনে করেন ওই ঘটনার পর থেকেই আজিজ উদ্দিন পরিবার রাজনৈতিকভাবে আরও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে পড়ে।

স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান আজিজ উদ্দিন চট্টগ্রাম চার আসন সীতাকুণ্ড এলাকার বিএনপি নেতা লায়ন আসলাম চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তাদের মতে এই রাজনৈতিক অবস্থানই তাকে টার্গেট করার অন্যতম কারণ।তারা বলেন রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কাউকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হলে তা শুধু একটি পরিবারের জন্য নয় পুরো সমাজের জন্য ভয়াবহ দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়ায়।

ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে জারি করা নোটিসে বলা হয় মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে বাদী ও বিবাদীদের জিজ্ঞাসাবাদ একান্ত প্রয়োজন।সে অনুযায়ী ০১ ০১ ২০২৬ ইং সকাল ১১ ঘটিকায় সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রসহ তদন্ত কর্মকর্তার কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে।নোটিসে স্বাক্ষর করেন জেলা গোয়েন্দা শাখা চট্টগ্রামের উপ পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ আবু সেলিম রেজা।

আইন সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে মামলার ধারাগুলো যেহেতু গুরুতর সেহেতু তদন্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও স্বচ্ছতা প্রয়োজন।তারা মনে করেন রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় না নিয়ে কেবল তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতেই তদন্ত হওয়া উচিত।অন্যথায় এটি রাজনৈতিক নিপীড়নের আরেকটি উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত হবে।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক কর্মীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের মামলা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে।তারা নিরপেক্ষ তদন্ত আজিজ উদ্দিনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক হয়রানি বন্ধের জোর দাবি জানান।এখন দেখার বিষয় তদন্তে কী উঠে আসে এবং সত্যিই অভিযোগ প্রমাণিত হয় নাকি এটি একটি পরিকল্পিত হয়রানির নজির হয়ে থাকে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর