শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ইসলামপুরে মাছ চুরি সন্দেহে এক যুবককে রাতভর নির্যাতন করে চোখ উপড়ে ফেলার চেষ্টা করল ইউপি সদস্য ভোগান্তির নাম বড়শশী সরদার পাড়া-ভাউলাগঞ্জ সংযোগ সড়ক: চেয়ারম্যানের আশ্বাসে ফল মেলেনি, ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী অদক্ষতা লুকানো: নীরব আত্মবিনাশের এক বিপজ্জনক রূপ—-মোঃ সেলিম উদ্দীন মুভমেন্ট ফর পাংকচুয়ালিটির বর্ষপূর্তি উদযাপন রিয়াদে সৌদি আরব বাংলাদেশ প্রবাসী সাংবাদিক ফোরাম ৩৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি পুনর্গঠন; ভুরুঙ্গামারীতে বাজার উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করলেন এমপি আনোয়ারুল ইসলাম ‘মুজিব নগর সরকার’ গঠন বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক অনন্য গৌরবগাথা সাফল্য..মকিস মনসুর নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে অসহায় ও ভূমিহীনদের উন্নয়ন শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত। বাঁশখালীতে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হারুনুর রশীদ: দোয়া ও সমর্থন প্রত্যাশা। তাহিরপুর সীমান্তে মৃত্যুফাঁদ: ভারতের কয়লা খাদানে বাংলাদেশি নিহত।

অদক্ষতা লুকানো: নীরব আত্মবিনাশের এক বিপজ্জনক রূপ—-মোঃ সেলিম উদ্দীন

তরিকুল ইসলাম, সহকারী বার্তা সম্পাদক / ২৮ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬

মোঃ সেলিম উদ্দীন

মানুষ জন্মগতভাবে সবকিছু জানে না, এটাই স্বাভাবিক। অদক্ষতা তাই কোনো অপরাধ নয়; বরং শেখার প্রক্রিয়ার একটি অপরিহার্য ধাপ। কিন্তু যখন কেউ নিজের অদক্ষতাকে আড়াল করার চেষ্টা করে, তখন সেটি শুধু ব্যক্তিগত সীমাবদ্ধতাই নয়, বরং এক গভীরতর সমস্যার রূপ নেয়। অদক্ষতা লুকিয়ে রাখা এক ধরনের নীরব আত্মবিনাশ, যা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান, উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর।

প্রথমত, অদক্ষতা স্বীকার না করার মানসিকতা শেখার পথকে বন্ধ করে দেয়। যে ব্যক্তি নিজের দুর্বলতাকে স্বীকার করতে পারে না, সে কখনোই উন্নতির সুযোগ গ্রহণ করতে পারে না। ফলে তার জ্ঞান ও দক্ষতার পরিসর স্থবির হয়ে পড়ে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই স্থবিরতা আত্মবিশ্বাসের অভাব, ভীতি ও কর্মক্ষেত্রে অনিশ্চয়তার জন্ম দেয়। একসময় সে নিজেই নিজের সক্ষমতার প্রতি সন্দিহান হয়ে পড়ে।

দ্বিতীয়ত, কর্মক্ষেত্রে অদক্ষতা লুকানো আরও বিপজ্জনক। একটি দল বা প্রতিষ্ঠানে প্রত্যেকের কাজ একে অপরের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সেখানে যদি কেউ নিজের সীমাবদ্ধতা গোপন করে ভুল সিদ্ধান্ত নেয় বা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়, তাহলে তার প্রভাব পড়ে পুরো দলের ওপর। এতে উৎপাদনশীলতা কমে, ভুলের পরিমাণ বাড়ে এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থাও ক্ষুণ্ন হয়। এমন ব্যক্তি ধীরে ধীরে দলের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়ায়, যার পরিণতিতে তাকে একপ্রকার “কর্মক্ষম প্রতিবন্ধী” হিসেবে দেখা শুরু হয়।

তৃতীয়ত, অদক্ষতা লুকানোর পেছনে থাকে এক ধরনের অহংবোধ ও সামাজিক ভয়। অনেকে মনে করেন, নিজের দুর্বলতা প্রকাশ করলে সম্মান কমে যাবে বা অন্যরা ছোট করে দেখবে। কিন্তু বাস্তবতা ঠিক উল্টো। যে ব্যক্তি নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে এবং শেখার আগ্রহ দেখায়, তাকে সহকর্মীরা বরং বেশি সম্মান করে। কারণ, স্বচ্ছতা ও শেখার মানসিকতাই একজন পেশাদার মানুষের প্রকৃত শক্তি।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক, দুই স্তরেই উদ্যোগ। ব্যক্তিগতভাবে প্রত্যেকের উচিত নিজের দুর্বলতাকে খোলামেলাভাবে স্বীকার করা এবং তা উন্নয়নের জন্য সচেষ্ট হওয়া। অন্যদিকে, প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে ভুলকে শেখার অংশ হিসেবে দেখা হবে, শাস্তির কারণ হিসেবে নয়। প্রশিক্ষণ, পরামর্শ এবং সহায়ক নেতৃত্ব, এই তিনটি উপাদান কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

শেষকথা হলো, অদক্ষতা কোনো লজ্জার বিষয় নয়; লজ্জার বিষয় হলো তা আড়াল করা। কারণ, অদক্ষতা স্বীকার করলে উন্নতির পথ খোলে, কিন্তু তা লুকিয়ে রাখলে ব্যক্তি নিজেই নিজের অগ্রগতির পথে দেয়াল তুলে দেয়। তাই ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কল্যাণে এখনই সময়—অদক্ষতাকে গোপন না করে, সাহসের সঙ্গে তা স্বীকার করে উন্নতির পথে এগিয়ে যাওয়ার।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর