শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে ৩৫ বিজিবির অভিযানে সীমান্ত থেকে ভারতীয় মদ উদ্ধার। বালিয়াডাঙ্গীতে মাদকবিরোধী সচেতনতায় ‘স্বপ্নময়ী কড়িয়া অর্গানাইজেশন’, গ্রামে গ্রামে ব্যানার-ফেস্টুন বকশীগঞ্জে বাস চাপায় ব‌উ-শ্বাশুড়ির মৃত্যু।। মামলাবাজি, অন্যের জমি দখল ও প্রতারণার অভিযোগ জসীমউদ্দীনের বিরুদ্ধে, এলাকাজুড়ে আতঙ্ক সিএনজিতে ইয়াবা পাচার, টেকনাফের যুবক আটক উখিয়ায় রূপগঞ্জে পূর্বশত্রুতার জেরে যুবককে কুপিয়ে জখম সাংবাদিক সাইফুল্লাহ তারেকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলার অভিযোগ, প্রতিবাদে মানববন্ধনে জনতার উপস্থিতি শনিবার সুরঝংকার একাডেমি খুলনার সম্মাননা স্মারক প্রদান ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতায় টেকনাফে দুই শতাধিক যুবকের অংশগ্রহণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার অভিযানে জেলার শ্রেষ্ঠ এএসআই মিরান হোসেন মোল্লা।

মামলাবাজি, অন্যের জমি দখল ও প্রতারণার অভিযোগ জসীমউদ্দীনের বিরুদ্ধে, এলাকাজুড়ে আতঙ্ক

দৈনিক সোনালী সময় / ৭ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬

তাড়াশ প্রতিনিধি:

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার লালুয়া মাঝিরা গ্রামে পৈতৃক জমিজমা নিয়ে বিরোধ, জোরপূর্বক জমি দখল, মামলা-মোকদ্দমা ও প্রতারণার অভিযোগকে কেন্দ্র করে জসীমউদ্দীন খন্দকারকে ঘিরে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, পৈতৃক সম্পত্তির অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি, মামলা-মোকদ্দমা ও ভয়ভীতির মুখোমুখি হচ্ছেন। গ্রামের কয়েকজন প্রধান মাতব্বরের অভিযোগ, লালুয়া মাঝিরা গ্রামের মমতাজ খন্দকারের ছেলে জসীমউদ্দীন খন্দকার তাঁর আপন ভাতিজাদের পৈতৃক জমি জোরপূর্বক দখলে রেখে ভোগদখল করছেন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা করা হচ্ছে। মাতব্বরদের দাবি, জমিজমা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে ভাতিজাদের পরিবারকে আইনি জটিলতায় ফেলা হচ্ছে; এমনকি তাঁদের অভিযোগ, একটি মামলায় ১৪ বছর বয়সী এক শিশুকে ১৮ বছর বয়সী দেখানো হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির বয়সসংক্রান্ত তথ্য ও মামলার নথি যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। ভুক্তভোগী পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের পিতা আবদুল হালিম খন্দকারের নামে তাড়াশ উপজেলার সুগুনা ইউনিয়নের মাঝিরা মৌজার লালুয়া মাঝিরা এলাকায় ৫৭২, ৫৭৩ ও ২৭৮ নম্বর দাগে মোট ২১৬ শতাংশ জমি ছিল। পরিবারের দাবি, উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনসংক্রান্ত দলিল, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের কাগজপত্র ও অন্যান্য নথির ভিত্তিতে তাঁরা নিজেদের জমির অধিকার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে নথিপত্র পর্যালোচনা, তদন্ত ও প্রতিবেদন দাখিলের পর ২০২৫ সালের ২৮ আগস্ট তাঁদের পক্ষে নামজারি অনুমোদন দেওয়া হয় এবং নতুন খতিয়ান ও হোল্ডিং তৈরি হয়। জমির বিরোধ নিয়ে তাড়াশ সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে মামলা ও মিসকেসের কার্যক্রমও হয়েছে বলে পরিবারটি জানিয়েছে। তবে নামজারি অনুমোদন ও ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের নথি থাকার পরও জমির দখল ও ব্যবহার নিয়ে বিরোধের অবসান হয়নি বলে অভিযোগ তাঁদের। পরিবারের দাবি, বিরোধপূর্ণ জমিতে চাষাবাদ ও দখলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তাঁদের আরও অভিযোগ, জমিতে গেলে লাশ ফেলে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগের কারণে তাঁরা নিজেদের নিরাপত্তা ও পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষা নিয়ে উদ্বিগ্ন। গ্রামের মাতব্বরদের ভাষ্য, জমিজমা নিয়ে বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি না হয়ে মামলা-মোকদ্দমা চলতে থাকলে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ আরও বাড়তে পারে। তাঁরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে জমির কাগজপত্র যাচাই, দখলসংক্রান্ত বিরোধের আইনানুগ নিষ্পত্তি এবং হুমকির অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তবে জসীমউদ্দীন খন্দকারের বিরুদ্ধে উত্থাপিত জমি দখল, প্রতারণা, হয়রানি ও হুমকির অভিযোগগুলোর স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। বিশেষ করে শিশুর বয়সসংক্রান্ত অভিযোগের ক্ষেত্রে মামলার নথি, জন্মনিবন্ধন বা অন্যান্য বয়সপ্রমাণকারী দলিল পরীক্ষা করা জরুরি। এ বিষয়ে অভিযুক্ত জসীমউদ্দীন খন্দকারের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা-ও প্রকাশ করা উচিত। ভুক্তভোগী পরিবার ও গ্রামের মাতব্বরদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করে জমির বিরোধের আইনসম্মত নিষ্পত্তি করবে এবং এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর