বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ০৫:০০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
কাজিপুরে আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঝটিকা মিছিল ঝিনাইগাতীতে কৃষি পুর্নবাসন কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের মাঝে উচ্চফলনশীল আমন, মরিচ বীজ ও সার বিতরণ প্রায় ৮০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে শেরপুর পৌরসভা গোদাগাড়ীতে মুরগির খামারের বর্জ্যে পরিবেশ দূষণ, দুর্গন্ধ ও মাছির উপদ্রবে অতিষ্ঠ ঈশ্বরীপুর গ্রামের স্থানীয়রা, শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ফেইসবুকে ইসলাম ও নবীজিকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য বিচার চেয়ে উত্তেজিত জনতার বিক্ষোভ মিছিল ও বাড়িঘরের হামলা। সীতাকুণ্ডে অপরাধীর পরিবর্তে ভুক্তভোগী গ্রেপ্তার: পুলিশি ভূমিকার স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রাজশাহী বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অডিও ভাইরাল, শ্রীবরদীতে ইউএনও’র পুত্র আয়মানের জন্মদিন উদযাপন জঙ্গলবাড়িতে ৩৮ পিস ইয়াবাসহ যুবক আটক, এ সময় পালালেন কথিত ডিলার। শেরপুরে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর বিশেষ প্রশিক্ষণার্থীদের দ্বিতীয় কনসালটেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

“নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করে নিরাপদ আবাসন নিশ্চিতকরণ” —মোঃ সেলিম উদ্দীন

তরিকুল ইসলাম, সহকারী বার্তা সম্পাদক / ১৪১ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : বুধবার, ৬ মে, ২০২৬

বর্তমান বিশ্বে নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করা শুধু একটি মাথা গোঁজার ঠাঁই নির্মাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি টেকসই, পরিবেশবান্ধব, সাশ্রয়ী এবং দুর্যোগ-সহনশীল আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার সঙ্গে সম্পর্কিত। জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানি সংকট, নগরায়ণ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করে নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এটি হতে পারে টেকসই উন্নয়নের অন্যতম কার্যকর সমাধান।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সৌরবিদ্যুতের গুরুত্ব:

নবায়নযোগ্য জ্বালানি হলো এমন শক্তির উৎস যা প্রকৃতি থেকে পুনঃপুন উৎপন্ন হয় এবং পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব কম ফেলে। সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, জলবিদ্যুৎ ও বায়োগ্যাস এর উদাহরণ। এর মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ সবচেয়ে সহজলভ্য, কার্যকর এবং বাংলাদেশের মতো রৌদ্রপ্রধান দেশের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।

সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের মাধ্যমে—

* বিদ্যুৎ বিল কমানো সম্ভব
* জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমে
* কার্বন নিঃসরণ হ্রাস পায়
* দুর্গম এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়
* বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় বিকল্প শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে

নিরাপদ আবাসন নিশ্চিতকরণে সৌরবিদ্যুতের ভূমিকা:

১. নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ

আবাসনে সৌর প্যানেল স্থাপন করলে দিনের বেলায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যাটারিতে সংরক্ষণ করা যায়, যা রাতে বা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় ব্যবহার করা সম্ভব। ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা যেমন সিসিটিভি, অগ্নি সতর্কীকরণ ব্যবস্থা ও জরুরি আলো সচল রাখা যায়।

২. দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি

বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা সাধারণ ঘটনা। সৌরবিদ্যুৎ চালিত আবাসন দুর্যোগকালে জরুরি যোগাযোগ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।

৩. পরিবেশবান্ধব ও স্বাস্থ্যসম্মত বাসস্থান

সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমে, ফলে বায়ুদূষণ ও গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ হ্রাস পায়। এটি সুস্থ ও নিরাপদ বসবাসের পরিবেশ তৈরি করে।

৪. অর্থনৈতিক সাশ্রয়

প্রাথমিক বিনিয়োগ কিছুটা বেশি হলেও দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ ব্যয় কমিয়ে এটি অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এটি নিরাপদ আবাসনের ব্যয় কমাতে সহায়ক।

বাংলাদেশে বাস্তবায়নের সম্ভাবনা:

বাংলাদেশে বছরে গড়ে ৩০০ দিনের বেশি সূর্যালোক পাওয়া যায়, যা সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য অনুকূল। ইতোমধ্যে গ্রামীণ এলাকায় সৌর হোম সিস্টেম সফলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। শহরাঞ্চলে বহুতল ভবন, আবাসিক প্রকল্প এবং সরকারি আবাসনে বাধ্যতামূলকভাবে সৌর প্যানেল স্থাপন করলে নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করা সহজ হবে।

বাস্তবায়নে করণীয়:

১. নতুন ভবন নির্মাণে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা
২. সরকারি প্রণোদনা ও সহজ ঋণের ব্যবস্থা করা
৩. প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বৃদ্ধি
৪. স্থানীয়ভাবে সৌরযন্ত্র উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা উন্নত করা
৫. দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় সৌরনির্ভর আবাসন প্রকল্প গ্রহণ

চ্যালেঞ্জ:

* উচ্চ প্রাথমিক বিনিয়োগ
* পর্যাপ্ত প্রযুক্তিগত দক্ষতার অভাব
* রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা
* জনসচেতনতার ঘাটতি

এসব সমস্যা সমাধানে সরকার, বেসরকারি খাত ও উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

উপসংহার: নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করে নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করা কেবল একটি প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন নয়, বরং এটি একটি টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণের পথ। পরিবেশ সুরক্ষা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সাশ্রয়ের সমন্বয়ে সৌরবিদ্যুৎভিত্তিক আবাসন হতে পারে বাংলাদেশের আবাসন খাতের এক নতুন দিগন্ত। সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে এটি দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য নিরাপদ, টেকসই ও আধুনিক আবাসন নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।

লেখক: বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আইডিএফ এর পরিচালক


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর