শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০:০৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
১৪ বছরের শিশুকে ১৮ বছর দেখিয়ে মামলায় জড়ানোর অভিযোগ, তাড়াশে চাঞ্চল্য যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত মাদক সম্রাট চিট রাসেল এখনো অধরা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পরও পলাতক, মানিলন্ডারিং তদন্তের দাবি জোরালো তাহিরপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে কলাগাঁও বাজার বণিক সমিতির নির্বাচন সম্পন্ন। লন্ড‌নে সিলেট শাহজালাল হাউজিং এস্টেটস প্রবাসী অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যো‌গে সভা অনুষ্ঠিত তাহিরপুরে ডেভিলের হামলায় জেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য আহত। জুলাই গণঅভ্যুঙ্খান দিবস ২০২৬ পালন উপলক্ষে সুনামগঞ্জে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত। যুগ যুগ ধরে কাঁচা রাস্তা, হাঁটু পানিতে বন্দি ঘাগড়া পুটল পাড়া:হাজারো মানুষের দুর্ভোগ সুনামগঞ্জে পুলিশের অভিযানে ১ কোটি ২ লাখ ৪০ হাজার টাকার ভারতীয় শাড়ি ও দুটি নৌকা জব্দ। ইতালি পাঠানোর নামে লিবিয়ায় পাচার ও নির্যাতনের অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের, আসামে গ্রেপ্তার হওয়ায় তদন্তভার ডিবিতে হস্তান্তরের দাবী। মহারশি নদীতে ডুবে প্রাণ হারানো ইদ্রিস আলীর পরিবারে (ইউএনও)আল-আমীনের মানবিক সহায়তা: ২৫ হাজার টাকার চেক ও শুকনা খাবার প্রদান

আলো মাদকাসক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্র শুধু সেবামূলক প্রতিষ্ঠান নয়, এটি আমাদের পরিবার: মঈনুল হক মনা

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১৯৭ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : রবিবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২৫

আলো মাদকাসক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্র শুধু সেবামূলক প্রতিষ্ঠান নয়, এটি আমাদের পরিবার: মঈনুল হক মনা

চট্টগ্রাম শহরে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার আজ একটি কঠিন কেন্দ্রের বাস্তবতা। জনসংখ্যার তুলনায় নগরে মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রের সংখ্যা অত্যন্ত কম-যেখানে লাইসেন্সপ্রাপ্ত বেড সংখ্যা মাত্র ৩৫০৪০০। অথচ মাদকাসক্ত রোগীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি। এমন সংকটময় সময়ে দীর্ঘ দুই যুগ ধরে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি নিয়ে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে কাজ করে যাচ্ছে আলো মাদকাসক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্র। বাংলাদেশের হাতে গোনা কয়েকটি মানসম্মত মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রের মধ্যে আলো আজ শীর্ষস্থানে। গত দুই দশকে এখানে হাজার হাজার রোগী সুস্থতা অর্জন করেছেন, যাদের অনেকে ১৪১৫ বছর কিংবা তারও বেশি সময় ধরে ক্লিন অবস্থায় স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন। সমাজে প্রতিষ্ঠিত বহু ব্যক্তির পরিচয়ে আজ যুক্ত রয়েছে-“আলো পুনর্বাসন কেন্দ্রের রিকভারি।” কেউ চাকরিতে, কেউ ব্যবসায়, আবার কেউ সমাজসেবায় সফলভাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

আলো মাদকাসক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্রটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো-নিয়মিত নামাজ ও প্রেয়ার সেশন, পেশাদার কাউন্সেলিং, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, সুষম খাদ্য ব্যবস্থাপনা, প্রতিদিনের ব্যায়াম ও খেলাধুলা,

অভিজ্ঞ
সাইকোলজিস্টদের নিয়মিত সেশন, পারিবারিক সম্পর্ক উন্নয়ন কার্যক্রম, কেন্দ্রে রয়েছে বড় খেলার মাঠ, সাংস্কৃতিক আয়োজন এবং নিয়মিত বিনোদনমূলক প্রোগ্রাম।

সুস্থতা অর্জনকারী রোগীরা চাইলে আজীবন ফ্রি ফলোআপ সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন।

আলো মাদকাসক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্র সম্পূর্ণ একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। তারা মাদকাসক্তিকে শুধু ব্যক্তিগত নয়, পারিবারিক ও সামাজিক সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করে। তাই রোগীর পাশাপাশি পরিবারকেও প্রস্তুত ও সচেতন করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়, যাতে রোগী পুনরায় মাদকে আসক্ত না হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নিয়মিত সহযোগিতা করায় কেন্দ্রটির কার্যক্রম আরও গতিশীল হয়েছে।

চট্টগ্রামে মাদকাসক্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও মানসম্মত মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রের সংখ্যা খুবই কম। বিশেষ করে তরুণ সমাজ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে। তাই প্রয়োজন-মাদকের সহজলভ্যতা কমানো, পারিবারিক নজরদারি বৃদ্ধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতা কার্যক্রম, দ্রুত চিকিৎসা ও সঠিক পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্বাচন। মাদক ছাড়ার প্রথম ধাপ হলো স্বীকার করা-“আমি সাহায্য চাই।”
এরপর অভিজ্ঞ ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রের সহায়তা নেওয়া জরুরি। চিকিৎসা, কাউন্সেলিং, আধ্যাত্মিক চর্চা, সুষম খাদ্যাভ্যাস, খেলাধুলা, পরিবার ও সমাজের সহায়তাড়সব মিলেই একজন রোগী সুস্থ জীবনের পথে এগিয়ে যেতে পারে।

নির্বাহী পরিচালক, আলো মাদকাসক্ত পুনর্বাসনকেন্দ্র


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর