রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১০:২৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
যুক্তরাজ্যে ভিত্তিক ‘‘দ‍্য ওয়ান পাউন্ড হসপিটাল’’ এর উদ্যোগে নেটওয়ার্কিং ও আলোচানা সভা অনুষ্ঠিত যাদুকাটায় প্রশাসনের অভিযানে বালু খেকোদের হামলা, ড্রেজার মেশিন আটক। তাহিরপুরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে সম্পন্ন হলো সাংবাদিককন্যা মমতা আক্তার জুঁইয়ের বিবাহ। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আদালতে বিচারাধীন দখল পুনরুদ্ধারের মামলা: ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় ভুক্তভোগী রাজশাহীতে ১৫ দিনব্যাপী বিভাগীয় বৃক্ষমেলা-২০২৬ উদ্বোধন করলেন ভূমি মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু “দুই বিসিএসে নন-ক্যাডার, ব্যাংক চাকরি, বাংলাদেশ ট্রেড এন্ড ট্যারিফ কমিশনের সহকারী পরিচালক পদ পেরিয়ে ৪৬তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে জুয়েল মিয়ার স্বপ্নপূরণ; ৫০ তম বিসিএসের লিখিতেও সফল” ১৪ বছরের শিশুকে ১৮ বছর দেখিয়ে মামলায় জড়ানোর অভিযোগ, তাড়াশে চাঞ্চল্য যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত মাদক সম্রাট চিট রাসেল এখনো অধরা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পরও পলাতক, মানিলন্ডারিং তদন্তের দাবি জোরালো তাহিরপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে কলাগাঁও বাজার বণিক সমিতির নির্বাচন সম্পন্ন। লন্ড‌নে সিলেট শাহজালাল হাউজিং এস্টেটস প্রবাসী অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যো‌গে সভা অনুষ্ঠিত

তাহিরপুরে হত্যাকাণ্ডের জেরে প্রতিপক্ষের ১৯টি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটতরাজ

প্রতিবেদকের নাম / ১৫৮ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : রবিবার, ৯ নভেম্বর, ২০২৫

বিশেষ প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার হলহলিয়া গ্রামে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের জেরে প্রতিপক্ষের ১৯টি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটতরাজের ঘটনায় নতুন তথ্য উঠে এসেছে। এ ঘটনায় গত ২৬ অক্টোবর (রবিবার) দুপুরে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আদালত, সুনামগঞ্জে ১৪ নম্বর মামলাটি দায়ের করেন হলহলিয়া গ্রামের আমির আলীর পুত্র সুলতান মিয়া।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি সোনা মিয়া হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। হত্যাকাণ্ডের পরদিনই আমির আলীর গোত্রভুক্ত ১৯টি বাড়িঘরে হামলা, ভাংচুর ও লুটতরাজ চালানো হয়। প্রতিপক্ষ সাদেক আলীর গোত্রভুক্ত লোকজন এই হামলার নেতৃত্ব দেয় বলে জানা গেছে।

গত ৬, ৭ ও ৮ নভেম্বর মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা যায়, নুর ইসলাম নামের এক ব্যক্তি লুটপাটের নেতৃত্ব দেন। তার নেতৃত্বে একদল লোক আমির আলীর পরিবারের বাড়িঘর ভেঙে মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

অনুসন্ধানকালে শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের বড়ছড়া বালুরচর গ্রামের আলমগীরের স্ত্রী শেফালি বেগম, বড়ছড়া গ্রামের সেলিম মিয়া, ফুটিয়া গ্রামের ফজলুল হক, এবং হলহলিয়া গ্রামের আব্দুল খালেক, যমুনা বেগম, খালেক মিয়া, এমদাদুল হক ও আমির আলীসহ একাধিক লুটপাট ক্রয়ের ব্যক্তিরা জানান, নুর ইসলাম ও তার সহযোগীরা লুট করা মালামাল পরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও পরিবারের কাছে বিক্রি করেছে। আমরা নিজেরাই নুর ইসলামের কাছ থেকে টাকা দিয়ে এসব মালামাল কিনেছি।

ভুক্তভোগীদের দাবি, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং অনেকে প্রভাব খাটিয়ে লুটের অর্থ ভাগাভাগি করেছে। তারা দ্রুত বিচার আদালতের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তি ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানান।

স্থানীয়রা জানান, হলহলিয়া গ্রামের এই সংঘাত শুধুমাত্র একটি হত্যাকাণ্ড নয় এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ ও গোত্রভিত্তিক ক্ষমতার দ্বন্দ্ব। হত্যার পর প্রতিশোধপরায়ণ একদল লোক পরিস্থিতিকে ঘৃণ্য লুটতরাজে রূপ দিয়েছে, যা গ্রামীণ সহিংসতার এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে।
আরো জানান,১৯ টি ঘরের ভিটায় হালচাষ করে মুলা ডেঙ্গা এসব ধরনের সবজি চাষ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় নিরপরাধ অনেকেও মামলার আসামি হয়েছেন। হলহলিয়া গ্রামের কাঠমিস্ত্রি উসমান গনি জানান, ঘটনার দিন তিনি পাশের এলাকায় লেদার বন্দ কাজে ছিলেন, কিন্তু হত্যাকাণ্ড মামলার ১৩নং আসামি হিসেবে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও হত্যা মামলার আরেক আসামি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা অবস্থান করলেও তাকে দেওয়া হয়েছে হত্যা মামলার আসামি।

অন্যদিকে, সৌদি আরব প্রবাসে থেকেও রক্ষা পাননি প্রবাসী মনোয়ারা বেগম। তার দুটি ঘর ও আসবাবপত্রসহ সবকিছু লুট করে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। মনোয়ারা বেগম বলেন, আমার প্রবাস জীবনের আট বছরের পরিশ্রমে যা কিছু অর্জন করেছিলাম, সবকিছুই নুর ইসলামের নেতৃত্বে একদল লোক লুট করে নিয়ে গেছে।

স্থানীয়রা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে লুটপাটে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও নিরপরাধদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করার জন্য।

তাহিরপুর থানা এস আই পঙ্কজ জানিয়েছেন, দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে লুটপাটে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হবে এবং এখন পর্যন্ত তদন্ত চলমান রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর