মোবাইল দিয়ে আঘাত করে মাদ্রাসার শিশু শিক্ষার্থীর মাথা ফাটালেন শিক্ষক, থানায় অভিযোগ
রাজু ইসলাম, বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার ভান্ডারপুর নুরানি হাফেজীয়া মডেল মাদ্রাসায় এক শিশু শিক্ষার্থীকে মোবাইল ফোন দিয়ে আঘাত করে মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শিক্ষক মোঃ দিপু কাজীর বিরুদ্ধে। আহত শিক্ষার্থীর নাম মোঃ রাফি মন্ডল। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত হয়ে শিশুটির বাবা-মা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, ভান্ডারপুর নুরানি হাফেজীয়া মডেল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী রাফি মন্ডলকে দ্বিতীয় শ্রেণির (আবাসিক) ছাত্র। রাফি তার মাদ্রাসা থেকে কাউকে না বলে বাড়িতে যাচ্ছিল, এমতো অবস্থা শিক্ষক দিপু কাজী বিষয়টি লক্ষ্য করেন এবং রাফিকে মাদ্রাসা ফিরিয়ে আনতে যায়, কিন্তু রাফি ভ্যানে চড়ে যাচ্ছি শিক্ষক তাকে মাদ্রাসায় আসতে বলে শিক্ষার্থীর তা অস্বীকার করলে ক্ষিপ্ত হয়ে উক্ত মাদ্রাসার দায়িত্বরত শিক্ষক নিজ হাতের মোবাইল ফোন দিয়ে সজোরে আঘাত করেন। মোবাইল ফোনের কোণার আঘাতে শিশু রাফির মাথা কেটে রক্তাক্ত জখম হয়।
প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হলে রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে দ্রুত বদলগাছী ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটির মাথায় প্রয়োজনীয় সেলাই দেন। বর্তমানে শিশুটি চিকিৎসাধীন ও আশঙ্কামুক্ত রয়েছে বলে জানা গেছে।
এই অমানবিক ঘটনার পর শিশুটির বাবা-মা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং সন্তানের ওপর এমন নির্মম নির্যাতনের বিচার চেয়ে বদলগাছী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বদলগাছী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ রুহুল আমিন (ওসি) জানান, অভিযোগপত্রটি আমরা পেয়েছি। একজন অবুঝ শিশুর ওপর এভাবে হাত তোলা বা আঘাত করা আইনগতভাবে দণ্ডনীয় অপরাধ। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে ঘটনার পর থেকে এলাকায় ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর এমন শারীরিক নির্যাতনের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল।