বিপুল মজুদ উন্মোচিত: তেলের সংকটে সিন্ডিকেট, র্যাব-৭’র অভিযান।
অবৈধ লেভেলিং ও গোপন মজুদে জব্দ হাজার হাজার লিটার তেল, জরিমানা ও মামলা
বিশেষ প্রতিবেদকঃ
চট্টগ্রাম নগরীতে ভোজ্যতেলের বাজারে অস্থিরতা ও কৃত্রিম সংকটের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে র্যাব-৭’র সাঁড়াশি অভিযানে বিপুল পরিমাণ মজুদ তেলের সন্ধান পাওয়া গেছে। দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র অবৈধভাবে তেল মজুদ, অনুমোদনবিহীন লেভেলিং এবং পুনরায় বোতলজাতকরণের মাধ্যমে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে আসছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে পরিচালিত এ অভিযানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-এর সমন্বয়ে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এতে অবৈধ লেভেলিং, গোপন মজুদ এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তেল সংরক্ষণের একাধিক প্রমাণ পাওয়া যায়।
অভিযানের প্রথম ধাপে অক্সিজেন মোড় এলাকায় একটি প্রতিষ্ঠানে বিএসটিআই অনুমোদন ছাড়াই ভোজ্যতেল পুনরায় বোতলজাত করার প্রমাণ মেলে। সেখান থেকে ১,০৪২ লিটার তেল জব্দ করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট মালিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এ ধরনের কার্যক্রম জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং ভেজাল মিশ্রণের আশঙ্কা বাড়ায়।
পরবর্তীতে দুই নম্বর গেট নাসিরাবাদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৯,৬০০ লিটার তেল গোপনে মজুদের প্রমাণ পাওয়া যায়। অভিযোগ রয়েছে, বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অধিক দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে এসব তেল সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। এ অপরাধে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
একই এলাকায় কর্ণফুলী কমপ্লেক্সে পরিচালিত আরেক অভিযানে প্রায় ১২,০০০ লিটার তেল অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সংরক্ষণের প্রমাণ পাওয়া যায়। জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বিবেচনায় সংশ্লিষ্টদের ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে বাজার নিয়ন্ত্রণ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে, যার প্রভাব সরাসরি ভোক্তাদের ওপর পড়ছে। ফলে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে বেশি দামে নিম্নমানের পণ্য কিনতে হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনুমোদনবিহীন লেভেলিং ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সংরক্ষণ তেলের গুণগত মান নষ্ট করে এবং খাদ্যজনিত রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। দীর্ঘদিন মজুদ রাখা তেল বাজারে সরবরাহ করা হলে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে।
র্যাব-৭ জানিয়েছে, অবৈধ মজুদদারি, ভেজাল ও অনুমোদনবিহীন কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। বাজার স্থিতিশীল রাখা ও ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে, নগরীর সাধারণ ব্যবসায়ীরা এ অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে বাজারের স্বাভাবিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হলে বাজারে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং সৎ ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন।