সাদ্দাম হোসেন সাজ্জাদ :
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলায় বৈচিত্র্য, সম্প্রীতি ও শান্তির বার্তা নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে সাংস্কৃতিক মেলা। গান, খেলাধুলা, গল্প শেয়ারিং ও ঐতিহ্যবাহী খাবারের আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাঙালি ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সামাজিক সংহতি জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় হ্নীলা বার্মিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাইক্লোন সেন্টারের নিচতলায় এ সাংস্কৃতিক মেলা অনুষ্ঠিত হয়।
‘Cultural Fair for Promoting Diversity and Peace’ শীর্ষক এ আয়োজনটি ‘Youth-Led Peacebuilding and Social Cohesion Initiatives in Bangladesh & Myanmar’ প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়ন করে সুজলা মহিলা সমিতি (Suzala Mahila Samiti)। এতে সহযোগিতা করে SHED ও ActionAid এবং অর্থায়নে ছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জাহেদুল ইসলাম। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন নুরুল আমিন। এরপর রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণে স্টোরি শেয়ারিং পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে হোস্ট ও রোহিঙ্গা হিসেবে বক্তব্য দেন ইরফাত ও বিবি জাহান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুজলা মহিলা সমিতির নির্বাহী পরিচালক সুমাইয়া কামাল। SHED-এর পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন আসিফ তাইজুল।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কমিউনিটি ওয়াচ গ্রুপের রাখাইন সম্প্রদায়ের সভাপতি মন্টিং অং। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বার্মিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ শামসুদ্দিন।
সাংস্কৃতিক মেলার অংশ হিসেবে দুটি খেলাধুলার আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে ছিল চেয়ার খেলা ও পলি পাশিং। খেলাধুলায় নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী অংশগ্রহণকারীরা উৎসাহের সঙ্গে অংশ নেন। প্রতিযোগিতায় বিজয়ী তিনজন নারী ও তিনজন পুরুষের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
পরে কক্সবাজার থেকে আগত শিল্পীদের পরিবেশনায় বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের বিভিন্ন গান পরিবেশন করা হয়। এতে মেলা প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
এ ছাড়া মেলায় বাঙালি ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন খাবারের স্টল সাজানো হয়। এসব স্টলে ভাপা পিঠা, চিতই পিঠা, পাটিসাপটা, পুলি পিঠা, পাকান পিঠা, নারকেলের পিঠা, নকশি পিঠা ও বিভিন্ন স্থানীয় মুখরোচক খাবার প্রদর্শন ও পরিবেশন করা হয়।
আয়োজকরা জানান, ভিন্ন জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জীবনযাত্রার সঙ্গে একে অপরকে পরিচিত করার পাশাপাশি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সামাজিক সম্প্রীতি বাড়ানোই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে স্থানীয় বাঙালি ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সামাজিক সংহতি আরও জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।