আওরঙ্গজেব কামাল : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী সারাদেশে প্রার্থীদের মনোনয়ন যাচাই-বাছাই কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দাঁড়িয়ে যশোর-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক মন্ত্রী এম. নাজিম উদ্দিন আল-আজাদ তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা, ত্যাগ ও উপলব্ধির কথা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, বর্তমান নির্বাচনী বাস্তবতা তাঁকে বারবার ফিরিয়ে নিচ্ছে ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের স্মৃতিতে। তারও আগে, ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৪ (তৎকালীন ৮৮) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সে নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফল না এলেও দলীয় নেতৃত্বের নির্দেশনায় তিনি কখনো মাঠ ছাড়েননি। বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার প্রত্যক্ষ নির্দেশে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচ বছর তিনি যশোর-৪ নির্বাচনী এলাকায় নিরলসভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এ সময়ে অভয়নগর উপজেলার আওতাধীন ১৮টি ইউনিয়ন পরিষদ ও নোয়াপাড়া পৌরসভাকে কেন্দ্র করে ওয়ার্ড কমিটি থেকে শুরু করে উপজেলা কমিটি পর্যন্ত বিএনপির শক্ত ভিত্তি গড়ে তোলা হয়। এই দীর্ঘ সময়ে চারদলীয় ঐক্যজোটের শরিক দলকে আসনটি ছেড়ে দেওয়া হলেও, তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তিকে সুসংহত রাখতে তিনি ও তাঁর সহযোদ্ধারা অবিরাম কাজ চালিয়ে যান। একইসঙ্গে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ করতে গিয়ে একপর্যায়ে তাঁকে টানা ১১ ঘণ্টা একটি ঘরে অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকতে হয়। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওই সময়ে ১৮টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে ১৬টিতেই বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছিল। এটি কোনো একক প্রচেষ্টার ফল নয়; বরং ত্যাগী, সুসংগঠিত ও নিবেদিতপ্রাণ নেতা-কর্মীদের সম্মিলিত পরিশ্রমেরই ফলাফল। রাজনৈতিক জীবনের এক বেদনাদায়ক স্মৃতির কথাও তুলে ধরেন তিনি। যশোর থেকে অভয়নগর উপজেলার বাগদা গ্রামে এক জনসভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে রেলক্রসিংয়ে চলন্ত ট্রেনের ধাক্কায় তিনি এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী মরহুম খালেদুর রহমান টিটো গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনায় তাঁর ডান পাশের হিপ জয়েন্ট মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং প্রায় চার মাস দীর্ঘ চিকিৎসার পর তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেলেও দলীয় শৃঙ্খলা ও আদর্শের প্রতি অবিচল থেকে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বিশাল জনসভায় তিনি জোটপ্রার্থীর পক্ষে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। সে সময়ও তিনি দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাননি। পরবর্তীতে রাজনৈতিক বাস্তবতায় কিছু অনভিপ্রেত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে তিনি দল থেকে বেরিয়ে এসে বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (বিএলডিপি) গঠন করেন এবং বর্তমানে দলটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে তাঁর দাবি, আজ যশোর-৪ আসনে বিএনপির যে সাংগঠনিক অবয়ব দৃশ্যমান, তা মূলত তাঁর ও তাঁর সহযোদ্ধাদের দীর্ঘদিনের শ্রম, ত্যাগ ও আত্মনিবেদনেরই ফল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে যশোর-৪ আসনে মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা এবং বঞ্চিতদের বেদনা সম্পর্কে সহানুভূতি প্রকাশ করে এম. নাজিম উদ্দিন আল-আজাদ বলেন, এই মুহূর্তে জনগণের কাছে তাঁর উপস্থিতি কতটা প্রয়োজনীয়—তা যাচাই করতেই তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করেছেন এবং যাচাই-বাছাইয়ে টিকে আছেন। তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রক্তস্নাত আদর্শে গড়ে ওঠা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বর্তমান বিশৃঙ্খল অবস্থা দেখে তাঁর হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়। কারণ বিএনপি প্রতিষ্ঠাকালে তিনি শহীদ জিয়ার সরাসরি স্নেহধন্য হয়ে দল গঠনের কাজে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।শেষে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন,“আমি জিয়ার সৈনিক ছিলাম, আছি এবং থাকব। আমার প্রতীক আমি নিজেই। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন। সকলের দোয়া কামনা করি।