হাকিকুল ইসলাম খোকন,বাপসনিউজঃ
শেরপুরে শীতার্ত হতদরিদ্র মানুষের হাতে কম্বল তুলে দিলেন সাদেক আলী ফাউন্ডেশন। গত শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি ২০২৬ শেরপুরে সদর উপজেলাধীন চর জংগলদী গ্রামে মরহুম সাদেক আলীর নিজ বাড়িতে প্রায় দু’শতাধিক দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। এ সময় সাদেক আলী ফাউন্ডেশনের নির্বাহ পরিচালক আব্দুল করিমের সভাপতিত্বে খালেদ মোশাররফ জনি’র পরিচালনায় সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জামালপুর জেনারেল পোষ্ট অফিসের সহকারী পোস্ট মাস্টার জেনারেল শেখ ফরিদ,স্হানীয় ওয়ার্ডের মেম্বার জাবেদ আলী,খুনুয়া মৌলভীনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সাইফুল ইসলাম, সমাজকর্মী শামীম হোসেন, ও চর জংগলদীর মধ্য পাড়া জামে মসজিদের সভাপতি সোহাগ মিয়া প্রমুখ।খবর আইবিএননিউজ।
সুন্দর কম্বল হাতে পেয়েই খুশি হয়ে উঠেন বৃদ্ধা খুশি হাজেরা বেগম। তিনি বলেন সাদেক আলী ফাউন্ডেশন প্রতি বছরের মত এবারও হাঁড় কাঁপানো শীতে আমার মত গরীব মানুষদের মাঝে অনেক কম্বল দিয়েছেন এ জন্য আমরা ভীষন খুশী। তিনি সাদেক আলী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সাংবাদিক আবুল কাশেম লেবুর কাছে কৃতজ্ঞ থাকবো। আমি তাঁর দীর্ঘায়ূ কামনা করছি।
শীতবস্ত্র প্রাপ্ত আয়নাল হক বলেন, সাদেক আলী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান প্রবাসী আবুল কাশেম কিছু একটা দিবে এই আশায় আমরা বসে থাকি। সারা বছর এ দিনের জন্য অপেক্ষায় করি। প্রতি বারের মত এবারও সুন্দর একটা কম্বল পেয়েছি এ জন্য আমি খুব খুশী। আমি তাঁর মরহুম বাবার জন্য আল্লাহ কাছে দোয়া করছি আল্লাহ যেন তাঁর বাবাকে বেহেস্ত নছিব করেন।চকচকে রংয়ের কম্বল হাতে পেয়ে ‘অশীতিপর বৃদ্ধা মালেকা বিবি তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, আমি খুবই গরিব মানুষ প্রচন্ড ঠান্ডায় গরম কাপড়ের অভাবে ভীষণ কষ্ট করছি । সমাজের ধনী মানুষেরা ভুলেও আমাদের মনে করেনা । আমেরিকার দেশে এত দুরে থেকেও আমাদের জন্য লেবু মিয়া কম্বল দিয়েছে এ জন্যে আমি ভীষণ খুশী। আমি মহান আল্লাহর দরবারে
তাঁর জন্য দীর্ঘায়ু প্রার্থনা করছি।
বিশেষ অতিথি উপস্থিত থেকে স্থানীয় ইউপি সদস্য জাবেদ আলী তাঁর বক্তব্যে বলেন, সাংবাদিক আবুল কাশেম লেবু একজন উদার সমাজসেবী নরম মনের ও পরোপকারী একজন মানুষ। তাঁর কাছে সাহায্য চেয়ে কেউ খালি হাতে ফিরেছেন এমন তথ্য আমার জানা নেই। আমাদের সমাজে অনেক ধনী মানুষ রয়েছে কিন্তু, তাঁদের দান করার মত উদার মন মানসিকতা নেই। আবুল কাশেম লেবু তাঁদের ব্যতিক্রম একজন মানুষ।এ জন্য তিনি প্রশংসা পাবার দাবিদার।
তিনি বলেন, আবুল কাশেমের সাংস্কৃতিক সেবী,শিক্ষানুরাগী-বিদ্যুৎসাহী মরহুম বাবা সাদেক আলীর নামে ফাউন্ডেশন করে প্রতি বছর হাজার হাজার টাকা খরচ করে শিক্ষা বৃত্তি, দরিদ্র মানুষের মাঝে অর্থ, বস্ত্র ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছেন তা আমাদের কাছে শিক্ষনীয়। প্রবাসী ভাইয়েরা ও সমাজের ধনী মানুষেরা যদি এ ভাবে সাহায্যের হাত প্রসারিত করে তাহলে আমাদের সমাজের দরিদ্র মানুষের অনেক উপকারে আসবে। তিনি তাঁর মতো সমাজের ধনী মানুষদের এ ভাবে দান-খয়রাত করার আহ্বান জানান।
অন্যান্য দের মধ্য বক্তব্য রাখেন সাদেক আলী ফাউন্ডেশনের পরিচালক পরিচালক রেজাউল করিম রিফাত, আইনুল ইসলাম,আনিসুর রহমান,ও জাহাংগীর আলম প্রমূখ।
উল্লেখ্য, নিউ ইয়র্ক প্রবাসী সাংবাদিক আবুল কাশেম ২০১৬ সালে তাঁর বিদুৎসাহী বাবা মরহুম সাদেক আলীর নামে এ ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। নিয়মিত ভাবে শেরপুর জেলার সদর উপজেলাধীন চর জংগলদী রাহেতুন নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রতি বছর পাঁচটি ক্লাসে সর্বোচ্চ নম্বর প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদেরকে মেধা বৃত্তি দিয়ে আসছেন। ইতোমধ্যেই এলাকায় ছেলেমেয়েদের মাঝে লেখাপড়ার প্রতিযোগিতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। কে এবার পরীক্ষায় ভালো করে সাদেক আলী বৃত্তি পাবে? করোনা মহামারীর সময়েও দুঃসহ ও ছিন্নমুল মানুষদের মাঝে দুই দুইবার নগদ অর্থ ও খাদ্য সামগ্রী বিরতণ করেছেন।
এ ছাড়াও সাদেক আলী জামে মসজিদে নিয়মিত আর্থিক সাহায্য ও সহযোগিতা করে আসছেন। অনুষ্ঠানে তাঁর বাবা মরহুম সাদেক আলী ও মা মরহুমা বেগম চাঁন বানুর জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন স্থানীয় মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মাওলানা মমিনুল হক ।