ঝিনাইগাতীর কৃতী সন্তান জয়নাল আবেদীন জিহান হলেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক
এসএসসি-এইচএসসিতে জিপিএ-৫, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণি; নিয়োগ পরীক্ষায় উপজেলায় ৭ম
মিজানুর রহমান, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি :শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপে মেধা ও কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর ইউনিয়নের নয়াগাঁও গ্রামের মেধাবী তরুণ জয়নাল আবেদীন জিহান। সদ্য অনুষ্ঠিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় সফলতার সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে তিনি ঝিনাইগাতী উপজেলায় ৭ম স্থান অর্জন করেছেন। এটি তার জীবনের প্রথম সরকারি চাকরি।
২০০২ সালের ৭ জুলাই শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর ইউনিয়নের নয়াগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন জয়নাল আবেদীন জিহান। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি তার ছিল গভীর আগ্রহ ও প্রবল মনোযোগ। সেই আগ্রহ ও অধ্যবসায়ের ধারাবাহিকতায় শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপেই তিনি কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন।
ধানশাইল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৭ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেন জিহান। এরপর ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজ থেকে ২০১৯ সালে এইচএসসি পরীক্ষাতেও জিপিএ-৫ অর্জন করেন। পরে তিনি গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। সেখান থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রথম শ্রেণিতে সম্পন্ন করেন তিনি।
শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিক সাফল্যের পাশাপাশি শিক্ষকতা পেশার প্রতি তার ছিল বিশেষ আগ্রহ। মাস্টার্সের ফল প্রকাশের আগেই তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেন। কঠোর প্রস্তুতি, মেধা ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শেষ পর্যন্ত সাফল্য অর্জন করেন। উপজেলায় ৭ম স্থান লাভের মধ্য দিয়ে পূরণ হয় তার প্রথম সরকারি চাকরিতে প্রবেশের স্বপ্ন।
জিহানের কাছে শিক্ষকতা শুধুমাত্র একটি চাকরি নয়; বরং এটি একটি মহান দায়িত্ব ও সেবার সুযোগ। জাতি গড়ার কারিগর হিসেবে শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা উপলব্ধি করেই তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা পেশাকে নিজের কর্মজীবনের পথ হিসেবে বেছে নিয়েছেন। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সঠিক শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি তাদের নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করার প্রত্যয় রয়েছে তার।
মেধাবী এই তরুণের সামনে শিক্ষাজীবনের সাফল্যের কারণে বিভিন্ন সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ারের সুযোগ থাকলেও তিনি বেছে নিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বশীল একটি ক্ষেত্র। তার মতে, একটি শিশুর ভবিষ্যৎ গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোর একটি হলো প্রাথমিক শিক্ষা। তাই এই পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারলে ভবিষ্যতে একটি সুন্দর সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জয়নাল আবেদীন জিহানের এই সাফল্যে পরিবার, স্বজন, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। তার অর্জনে গর্বিত স্থানীয়রা। একই সঙ্গে তার এই সাফল্য এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের মতে, মেধা, অধ্যবসায়, নিয়মিত পরিশ্রম ও নিজের লক্ষ্য সম্পর্কে দৃঢ়তা থাকলে সাফল্য অর্জন সম্ভব—জয়নাল আবেদীন জিহানের পথচলা তারই উজ্জ্বল উদাহরণ।
নতুন কর্মজীবনে একজন আদর্শ ও মানবিক শিক্ষক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান জিহান। তার লক্ষ্য, শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান নয়, বরং নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমের শিক্ষায় শিক্ষিত করে ভবিষ্যতের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। একজন শিক্ষক হিসেবে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনে নিজের মেধা, জ্ঞান ও শ্রমকে কাজে লাগাতে চান এই কৃতী সন্তান।