ঢাবি-শাবিপ্রবিতে সুযোগ পেয়েও আইনকে বেছে নেন নাজমুল, ১৮তম বিজেএসে সিভিল জজ:
কসবার বিদ্যানগরের কৃতী সন্তান নাজমুল হাসানের প্রথম চাকরিতেই বড় সাফল্য
মিজানুর রহমান,বিশেষ প্রতিবেদন:ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার ১০ নং বায়েক ইউনিয়নের বিদ্যানগর গ্রামের কৃতী সন্তান নাজমুল হাসান ১৮তম বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সিভিল জজ/জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। কর্মজীবনের প্রথম চাকরিতেই এমন সাফল্য অর্জন করে তিনি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নিজ এলাকার মানুষের মুখে গর্বের হাসি ফুটিয়েছেন।
নাজমুল হাসান ২০০০ সালের ২১ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার ১০ নং বায়েক ইউনিয়নের বিদ্যানগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি তাঁর ছিল গভীর আগ্রহ ও মনোযোগ। শিক্ষাজীবনের শুরুতে তিনি অষ্টজংগল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। এরপর শেরে বাংলা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৬ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৪.৯৪ অর্জন করেন।
পরবর্তীতে তিনি শশীদল আলহাজ্ব মুহাম্মাদ আবু তাহের কলেজ থেকে ২০১৮ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ অর্জন করেন। কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের ধারাবাহিকতায় ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে তিনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদে ভর্তি হন।
নাজমুল হাসানের মেধার স্বীকৃতি হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েও ভর্তির সুযোগ হয়েছিল। তবে দেশের আইন ও বিচারব্যবস্থায় অবদান রাখার স্বপ্ন থেকেই তিনি আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে পড়াশোনা শেষে তিনি এলএলবি ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন।
শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই নিজের লক্ষ্য সম্পর্কে দৃঢ় ছিলেন নাজমুল হাসান। কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাসকে সঙ্গী করে তিনি বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের পরীক্ষায় অংশ নেন। অবশেষে ১৮তম বিজেএসে সিভিল জজ/জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে নিজের স্বপ্ন পূরণের পথে এক ধাপ এগিয়ে গেলেন।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, এটিই তাঁর প্রথম চাকরি। কর্মজীবনের শুরুতেই বিচার বিভাগে প্রবেশের সুযোগ পাওয়ায় নাজমুল হাসানের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিদ্যানগরসহ বায়েক ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাঁকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
নাজমুল হাসানের এই সাফল্য শুধু তাঁর পরিবারের জন্যই নয়, তাঁর নিজ এলাকা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্যও গর্বের বিষয়। তাঁর সাফল্য প্রমাণ করে—সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণ, কঠোর পরিশ্রম ও দৃঢ় মনোবল থাকলে প্রতিকূলতা পেরিয়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব।
নাজমুল হাসানের পরিবার, শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা আশা করছেন, বিচার বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকে তিনি সততা, ন্যায় ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন এবং দেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন।