সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
টেকনাফে ১০৫ সদস্যের যৌথ অভিযান, মানবপাচার মামলার দুই আসামি গ্রেপ্তার স্থায়ী ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণই হবে প্রথম অগ্রাধিকার: চেয়ারম্যান প্রার্থী এইচ এম ছামিউল হক (রাজু) সেন্টমার্টিনে ২৩২ জনকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিল কোস্ট গার্ড রাজশাহী শিশু হাসপাতালের অবকাঠামোর কাজ শেষ ২০২৩ সালে , তবুও চালু হয়নি চিকিৎসাসেবা হিমছড়ি ঢালায় ডাকাতির ঘটনায় সন্দেহভাজন আসামি গ্রেপ্তার পূর্ব আকাশ কুড়ি যুব সংঘ বনাম নব উন্নয়ন যুব ক্লাব কর্তৃক আয়োজিত এক বিশাল হাডুডু খেলা অনুষ্ঠিত। শাহজালাল রুমিকে গ্রেপ্তার করার সিদ্ধান্ত নেয়নি পুলিশ: রাশেদ খান ​প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক অধ্যাপক আবুল হাশেমকে শেষ বিদায়: বৃটেন কমিউনিটির শোক টেকনাফে এনসিপির আহ্বায়ক কমিটির সভা সাতকানিয়ায় হত্যা ও অস্ত্রসহ ৯ মামলার পলাতক আসামি গ্রেপ্তার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান কে হবেন? যা জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় এসএসএস-এর ‘বেস্ট পারফরম্যান্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ অনুষ্ঠিত গর্জনীয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার সুবর্ণজয়ন্তী র আহ্বায়ক কমিটি গঠিত সাংবাদিক বেলাল উদ্দীন আহ্বায়ক মাওলানা মাছুমুর রশিদ সচিব নকলায় ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী মোবারক হোসেন মিন্টু বকশীগঞ্জে ডিলার ও রিটেইলার সম্মেলনে কাবেরী ৫০ জাত ভুট্টার মোড়ক উন্মোচন উখিয়ায় বিজিবির অভিযানে ২০ হাজার ইয়াবাসহ যুবক আটক মিয়ানমার থেকে ইয়াবা আনার অভিযোগে উখিয়ায় যুবক আটক মাটি খুঁড়ে মিলল ১০ হাজার ইয়াবা, বাজারমূল্য ৩০ লাখ টাকা সাংবাদিক আলিফ হত্যার বিচার দাবিতে ৭ সদস্যের আন্দোলন সমন্বয় কমিটি গঠন দেওয়ানগঞ্জে অজ্ঞাত ব্যক্তির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
প্রকাশক ও সম্পাদক সোহেল সরকার কর্তৃক   বাংলা নিউজ মিডিয়া থেকে সম্পাদিত ও প্রকাশিত দৈনিক সোনালী সময় পত্রিকায় সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে WhatsApp +44 7574 879654

তাহিরপুরে আটক নাসির বিড়ি’র হদিস মিলছে না, প্রশ্নের মুখে মাদক নির্মূল ঐক্য পরিষদ।

বিশেষ প্রতিনিধি / ১৮৬ বার দেখা হয়েছে
নিউজটি প্রকাশ হয়েছে সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে আটক করা প্রায় দুই লাখ বিশ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় নাসির বিড়ির কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। আটক করা এসব বিড়ি পুলিশের কাছে হস্তান্তর না করে আত্মসাৎ করা হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে উপজেলা মাদক নির্মূল ঐক্য পরিষদ, তাহিরপুর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আল আমিন হুদার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
অভিযুক্ত আল আমিন হুদা উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং কামড়াবন্দ গ্রামের বাসিন্দা।
অভিযোগের বিষয়ে রোববার রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে আল আমিন হুদা দাবি করেন, ভারতীয় নাসির বিড়ি বিক্রির লাইসেন্স রয়েছে। বিষয়টি তিনি জেলা কমিটির সভাপতির কাছ থেকে নিশ্চিত হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, আটক করা বিড়িগুলো যাচাই-বাছাই করে মাদকদ্রব্য নয় বলে নিশ্চিত হওয়ার পর প্রকৃত মালিকের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি বিএনপির সংশ্লিষ্ট অনেকেই জানেন বলেও তিনি পোস্টে উল্লেখ করেন। তবে ওই পোস্টে তিনি বিড়ির প্রকৃত মালিকের নাম প্রকাশ করেননি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বাদাঘাট এলাকার কুকুরকান্দি থেকে চার কার্টন ভারতীয় নাসির বিড়ি আটক করে উপজেলা মাদক নির্মূল ঐক্য পরিষদ, তাহিরপুর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আল আমিন হুদার নেতৃত্বাধীন একটি দল।
অভিযোগ রয়েছে, বিড়িগুলো আটকের পর পুলিশের কাছে হস্তান্তর না করে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, আটক করা বিড়িগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য দুই লাখ বিশ হাজার টাকা। এসব বিড়ির মালিক ফকিরনগর গ্রামের কুদ্দুস মিয়া বলে দাবি করা হচ্ছে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
সুমন তালুকদার নামে এক ব্যক্তি মন্তব্য করেন, অবৈধ নাসির বিড়ি পুলিশের কাছে হস্তান্তর না করে যদি পুনরায় মালিকের কাছে ফেরত দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে এর প্রমাণ কী—এমন প্রশ্নের জবাব প্রয়োজন।
অন্যদিকে ছাত্রদল নেতা আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ তাঁর মন্তব্যে প্রশ্ন তোলেন, চার কার্টন নাসির বিড়ি আটকের পর সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কেন তা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। একই সঙ্গে তিনি মাদক নির্মূল কমিটির কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আল আমিন হুদা তাঁর ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, আটক করা বিড়িগুলো যাচাই-বাছাইয়ের পর সরাসরি মাদকদ্রব্য নয় বলে জানতে পারেন। পরে সেগুলো প্রকৃত মালিকের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলছেন, আটক করা ভারতীয় নাসির বিড়ির উৎস, বৈধতা, প্রকৃত মালিকানা এবং কীভাবে তা পুনরায় মালিকের কাছে পৌঁছেছে—এসব বিষয় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বর্তমানে আটক করা বিড়িগুলো কোথায় রয়েছে এবং প্রকৃত মালিক কে, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
ফকিরনগর গ্রামের কুদ্দুস মিয়া বলেন, তিনি একটি মাদক মামলার আসামি হওয়ায় বাজার-হাটে তেমন যান না। আল আমিন হুদা তাঁকে বাদাঘাট বাজারে গিয়ে দেখা করতে বলেছিলেন। তবে সেখানে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। পরে আল আমিন হুদাসহ তাঁর নেতৃত্বাধীন দল চার খাঁচা ভারতীয় নাসির বিড়ি ও একটি কাঠের নৌকা নিয়ে যায় বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বিড়ির আনুমানিক মূল্য দুই লাখ বিশ হাজার টাকা।
এ বিষয়ে তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ ফারুক আহমেদ বলেন, ভারতীয় ‘নাসির বিড়ি’ সম্পূর্ণ অবৈধ ও নিষিদ্ধ। মাদক নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে এসব বিড়ি আটক করা হয়ে থাকলে তা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা উচিত ছিল।
ওসি আরও বলেন, আটক করা কোনো পণ্য যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু আটক করা পণ্য অন্য কারও কাছে হস্তান্তর করার কোনো সুযোগ নেই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরো সংবাদ