বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২১ অপরাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহীতে সাংবাদিকদের মানববন্ধন: অপপ্রচার ও ভুয়া সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি তাহিরপুরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা, পরে পাঁচ গ্রামের সংঘর্ষ। দেওয়ানগঞ্জে মাদক সেবনের অপরাধে যুবকের এক বছরের কারাদণ্ড। সন্দেহজনক বোট দেখে পালাল পাচারকারীরা, মিলল ৯০ হাজার ইয়াবা ব্যর্থ সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে উত্তরবঙ্গে প্রতীকী অবরোধ, পোস্টারিং ও হ্যান্ডবিল বিতরণ কক্সবাজারে ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আটক বিএল কলেজের ২ নম্বর গেটে যুবককে গুলি, আহত মহিদুল তেরখাদা ইউনিয়ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী গোলাম মোস্তফা ভুট্টোর ১৫ দফা অঙ্গীকার উখিয়ায় পৃথক অভিযানে ৩০ হাজার ইয়াবাসহ দুই রোহিঙ্গা আটক বাঙালি-রোহিঙ্গা সাংস্কৃতিক মিলনে হ্নীলায় শান্তির আয়োজন

তাহিরপুরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা, পরে পাঁচ গ্রামের সংঘর্ষ।

বিশেষ প্রতিনিধি / ৩১ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ক্রিকেট খেলার বল ইজিবাইকে লাগাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধের জেরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে পাঁচ গ্রামের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়েছেন। বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা সদরের মধ্য তাহিরপুর এলাকায় প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এ সময় ২০ থেকে ৩০টি বসতঘর ও চারটি দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া মধ্য তাহিরপুর গ্রামের আলকাছ মিয়ার একটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার দুপুর ১২টার দিকে তাহিরপুর-জামালগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনের সড়কে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের লোকজন মুখোমুখি হলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েক দিন আগে বীরজয় লক্ষ্মী ধুতমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে কয়েকজন শিশু ক্রিকেট খেলছিল। খেলার সময় একটি বল পাশের সড়ক দিয়ে যাওয়া মধ্য তাহিরপুর গ্রামের জালাল মিয়ার ইজিবাইকে গিয়ে পড়ে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্য তাহিরপুর গ্রামের হাফিজ মিয়ার সঙ্গে খেলোয়াড়দের কথা-কাটাকাটি ও একপর্যায়ে হাতাহাতি হয়।
এর জের ধরে একই দিন বিকেলে তাহিরপুর বাজারে ধুতমা গ্রামের জসিম উদ্দিনকে মধ্য তাহিরপুর গ্রামের কয়েকজন মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে মঙ্গলবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাফিজ মিয়াকে বীরনগর গ্রামের কয়েকজন মারধর করেন বলে স্থানীয়রা জানান। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, মঙ্গলবার রাতে বীরনগর গ্রামের একটি মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়। সেখানে বুধবার সকালে বীরনগর, জয়নগর, লক্ষ্মীপুর ও ধুতমা গ্রামের লোকজনকে যার কাছে যে অস্ত্র রয়েছে তা নিয়ে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ওই ঘোষণার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও পুলিশ উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা চালায়। তবে শেষ পর্যন্ত উত্তেজনা প্রশমিত হয়নি।
বুধবার দুপুরে বীরনগর, জয়নগর, লক্ষ্মীপুর ও ধুতমা গ্রামের লোকজন নৌকাযোগে মধ্য তাহিরপুর এলাকায় এসে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। এ সময় কয়েকটি বসতঘর ও দোকানে ভাঙচুর করা হয়। একপর্যায়ে আলকাছ মিয়ার বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
পরে মধ্য তাহিরপুর গ্রামের লোকজনও প্রতিরোধ গড়ে তুললে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন।
মধ্য তাহিরপুর গ্রামের বাসিন্দা তানিম আহমদ লিংকন ও রহিমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, সামান্য একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার রাতে মসজিদের মাইকে বুধবার হামলার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। দুপুরে চার গ্রামের বিপুলসংখ্যক মানুষ নৌকাযোগে এসে তাদের এলাকায় হামলা চালায়। এ সময় বাড়িঘর ও দোকানপাটে ভাঙচুরের পাশাপাশি নারীদের মারধর এবং একটি বাড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগ করেন তারা।
অন্যদিকে বীরনগর গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য বাবুল মিয়া বলেন, শিশুদের ক্রিকেট খেলার সময় ইজিবাইকে বল লাগাকে কেন্দ্র করেই বিরোধের সূত্রপাত। পরবর্তীতে দুই পক্ষের মধ্যে মারধরের ঘটনা ঘটে। বুধবার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও স্থানীয় লোকজন ও প্রশাসনের উদ্যোগে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
জয়নগর গ্রামের বাসিন্দা, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুনাব আলী বলেন, একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারামারি থেকে বড় ধরনের সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বর্তমানে ঢাকায় রয়েছেন উল্লেখ করে বলেন, এ ঘটনায় তারা বিব্রত ও লজ্জিত। এলাকার কিছু অতিউৎসাহী মানুষের কারণে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা, উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছে বলে জানান।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমদ বলেন, কয়েক দিন আগে ঘটে যাওয়া একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর ধারাবাহিকতায় বুধবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর