বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ৫নং শোলক ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় এসেছেন উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য ফ্রন্টের আহ্বায়ক পলাশ কুন্ড। তবে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশাকে কেন্দ্র করে তাঁকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক।
পলাশ কুন্ডের রাজনৈতিক পরিচিতি, সাংগঠনিক দক্ষতা, জনসম্পৃক্ততা এবং চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার প্রয়োজনীয় যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন কেউ কেউ। অন্যদিকে, দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশার অধিকার এবং প্রার্থী বাছাইয়ের স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিয়েও উঠেছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
পলাশ কুন্ডের অভিযোগ,শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে সকল ক্যাটাগরি যাচাই-বাছাই এবং দলীয় নেতাকর্মীদের ভোটের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই বরিশাল-২ আসনের বিএনপি নেতা এস. সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু ও উজিরপুর উপজেলার নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে তাঁকে যৌক্তিক কারণ ছাড়াই লাঞ্ছিত করে সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয়।
ঘটনাটি মুহূর্তের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
এ ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই কয়েকটি প্রশ্ন সামনে এসেছে—একজন চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার মতো প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক পরিচিতি, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও জনসমর্থন পলাশ কুন্ডের রয়েছে কি না? দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর যোগ্যতা কতটুকু? আবার এসব যোগ্যতা যাচাইয়ের আগেই তাঁকে অপমানিত করে বের করে দেওয়ার অভিযোগ কতটা গ্রহণযোগ্য?
রাজনীতিতে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া না-পাওয়ার বিষয়টি দলীয় সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু একজন মনোনয়নপ্রত্যাশীর বক্তব্য শোনা, তাঁর যোগ্যতা যাচাই করা এবং সম্মানজনক আচরণ নিশ্চিত করা রাজনৈতিক শিষ্টাচারেরই অংশ।
মনোনয়ন না দেওয়ার অধিকার দলের রয়েছে, কিন্তু একজন মনোনয়নপ্রত্যাশীকে অপমানিত করার অভিযোগ উঠলে তার সুষ্ঠু ব্যাখ্যা দেওয়ার দায়ও সংশ্লিষ্টদের রয়েছে।
এখন দেখার বিষয়, পলাশ কুন্ডের উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে বিএনপির সংশ্লিষ্ট নেতারা কী ব্যাখ্যা দেন এবং শোলক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী বাছাইয়ে শেষ পর্যন্ত কী প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়।
প্রশ্ন একটাই—যোগ্যতার মূল্যায়ন, নাকি রাজনৈতিক প্রভাব? কোন পথে নির্ধারিত হবে শোলক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী?