স্টাফ রিপোর্টার: জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের দুই প্রভাবশালী নাজির ও পৌর ভূমি অফিসের সহকারী ভুমি কর্মকর্তা রেজোয়ান হোসেনের সিন্ডিকেট ভেঙে অবশেষে উদ্ধার হলো সদর উপজেলা ভূমি অফিসের জন্য বরাদ্দকৃত মূল্যবান জমি। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নাইরুজ্জামানের কঠোর নির্দেশনায় ১০ মে বিকেলে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে জায়গাটি কাঁটাতারের বেষ্টনীতে ঘিরে নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, নীলফামারী টাউন মৌজার এস এ ৪০৮ খতিয়ানের ৩৪৯ নম্বর দাগের এই জমিটি মূলত উপজেলা ভূমি অফিস কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য নির্ধারিত ছিল। কিন্তু জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের দুই প্রভাবশালী নাজির, এসএ শাখার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, নেজারত শাখার মোঃ মমিন ও সাবেক পৌর ভূমি অফিসের সহকারী ভুমি কর্মকর্তা রেজোয়ান হোসেন নিজের পদের অপব্যবহারসহ পূর্বের তথ্য গোপন করে জেলা প্রশাসনকে ভুল বুঝিয়ে ইজারা দেওয়ার পক্ষে সরেজমিন প্রতিবেন দাখিল করে। তার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দুই নাজির উপজেলা ভূমি অফিসের নিজেস্ব ভবন নির্মানের মূল্যবান জায়গাটি ইজারা নিয়ে গ্রাস করার ষড়যন্ত্র করেন। তবে বিষয়টি জানাজানি হলে প্রশাসন ইজারাটি বাতিল করে দেয়। এতেই বাঁধে বিপত্তি বাতিলের আদেশে দেখা যায় ইজারা আদেশের স্বারক নম্বর ও প্রদত্ত ভিপি কেস নম্বরের সাথে কোন মিল পাওয়া যায়নি বাতিল হওয়া আদেশে যা একটি জালিয়াতির সমতুল্য বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টর কর্মকর্তারা। তবে প্রশাসনের এমন উদাসিনতার বিষয়টি প্রশ্ন তুলছে জনমনে।
উপজেলা ভূমি অফিসের বরাদ্দকৃত জায়গার তথ্য ও নথি গোপন করে গত ২৪ মার্চ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের দুই নাজির তাদের স্ত্রীদের মোছাঃ রুমা বেগম, মোছাঃ ইসরাত জাহান মিম ও একজন বহিরাগত স্থানীয় ব্যাক্তি মুহিন আনসারীর নামে নীলফামারীর প্রাণকেন্দ্র চৌরঙ্গীর মোড়ের ১৫ শতক অর্পিত সম্পত্তিটি ইজারা আদেশ করে নেন।
মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে জালিয়াতি ধরা পড়লে তড়িঘড়ি করে একই তারিখে ইজারা বাতিল করা হলেও নথিতে ভিন্ন ‘ভুতুড়ে’ ভিপি কেস নম্বর ও স্বরক নম্বর ব্যবহার করে জালিয়াতি করে অবকাঠামো নির্মান অব্যাহত রাখেন। অভিযোগ রয়েছে, এই নাজির সিন্ডিকেট ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ভুক্তভোগী জি এম জাহাঙ্গীর আলমের ভোগদখলীয় বসতবাড়ির তালা ভেঙে দখলের ধৃষ্টতাও দেখিয়েছিল।
জমিটির ইজারা আদেশে দেখা যায় স্মারক নং-০৫.৪৭.৭৩০০.০১৬.০৯.৫/৮৬-৯০ ও ভিপি কেস নম্বর ৪৪/১-৬৮-৬৯, উল্লেখ করা হয়। অথচ জনরোষের মুখে একই দিনে ইজারা বাতিলের আদেশ জারি করেন রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর সুমনা পারভীন মিতু, সেই বাতিল আদেশে কেস নম্বর দেখানো হয় ভিপি-৪/৭৮ (নীল:), স্মারক নং- ০৫.৪৭.৭৩০০.০১৬.০৯.৪৪/৯-৫৫। একই জমির ক্ষেত্রে ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে দুটি ভিন্ন কেস নম্বর ও স্বারক নম্বর ব্যবহারকে প্রশাসনের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা অসাধু চক্রের নজিরবিহীন জালিয়াতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
পূর্বের নথি দেখে জানা যায়, ২০২০ সালে তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) বেলায়েত হোসেন উক্ত জমিতে ভূমি অফিস নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এরপর ২০২৩ সালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইবনুল আবেদীনের স্বাক্ষরিত পত্রে উপজেলা প্রকৌশলী বরাবর ভবন নির্মাণের ‘ডিপিপি’ ছক প্রেরণ করা হয়। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রকল্পের বরাদ্দকৃত সম্পত্তির তথ্য গোপন করে ইজারা নেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
উচ্ছেদ অভিযান প্রসঙ্গে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ জানান, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে সরকারি সম্পত্তি পুনরুদ্ধারে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জায়গাটিতে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে কেউ এটি দখলের সাহস না পায়। পরবর্তীতে অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়া হবে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নাইরুজ্জামান জানান, জমিটি উদ্ধার করে সরকারি ভাবে দখল নেয়া হয়েছে।খুব দ্রুত সেখানকার অবৈধ স্থাপনা গুলো ভেঙে ফেলা হবে।
সরকারি দপ্তরের ভিতরে এমন ক্ষমতার অপব্যাবহার ও জালিয়াতি বিষয়ে জরিতদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয়া হবে সেটি দেখার অপেক্ষায় সাধারণ মানুষ।