সরকারি খাস জমি অবৈধ দখলমুক্ত করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বলেন, ভূমিদস্যুমুক্ত সরকারি খাস জমি নিশ্চিত করতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন খাস জমি প্রকৃত ভূমিহীন মানুষের মধ্যে বিতরণেও সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।
বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এ কথা বলেন ভূমিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের কল্যাণে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচিতে সরকারি খাস জমি উদ্ধার কার্যক্রমকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধারকৃত খাস জমি প্রকৃত ভূমিহীনদের মধ্যে বন্দোবস্ত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ভূমিমন্ত্রী জানান, কোনো এলাকায় ৪০ থেকে ৪৫ বছর ধরে বসবাসরত দরিদ্র পরিবারগুলোর মধ্যে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) মাধ্যমে খাস জমি বন্দোবস্ত দেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে প্রতিটি ভূমিহীন পরিবারকে এক থেকে দুই কাঠা করে খাস জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, অতীতে দায়িত্বে থাকা কিছু কর্মকর্তার ব্যর্থতার কারণে সরকারি খাস জমি দখলের বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো সরকারের নৈতিক দায়িত্ব।
পূর্ববর্তী সরকারের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, সে সময় স্থানীয় ভূমিদস্যুরা সরকারি সম্পত্তি দখল করেছে। বর্তমান সরকার অবৈধভাবে দখল হওয়া সরকারি জমি উদ্ধার এবং উদ্ধারকৃত খাস জমি যোগ্য উপকারভোগীদের মধ্যে বিতরণের জন্য ১৮০ দিনের অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, সরকারি জমি উদ্ধারে সরকার ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ভূমি ও ভবন (দখল পুনরুদ্ধার) অধ্যাদেশ, ১৯৭০, ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ এবং ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিধিমালা, ২০২৪ অনুযায়ী কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ভূমিমন্ত্রী আরও জানান, মাঠপর্যায়ে উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসকদের অনুকূলে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কার্যক্রমের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।