
মোঃ জালাল উদ্দিন। সিলেট ললিতকলা একাডেমি কর্তৃক গৃহীত আদর্শ সংগীত বিদ্যালয়, শ্রীমঙ্গল কেন্দ্রের বার্ষিক সাংস্কৃতিক পরীক্ষা–২০২৫ উপলক্ষে সনদ বিতরণ ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান উৎসবমুখর ও প্রাণবন্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি ২০২৬ ইং) বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত শ্রীমঙ্গল ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আদর্শ সংগীত বিদ্যালয়, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার-এর শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজনটি এক আনন্দঘন উৎসবে পরিণত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন শ্রীমঙ্গল ভূনবীর দশরথ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ঝলক কান্তি চক্রবর্তী।
তিনি বলেন, “শিক্ষার পাশাপাশি সংস্কৃতিচর্চা একটি জাতির মানসিক ও নৈতিক ভিতকে শক্তিশালী করে। সংগীত ও নৃত্যের মতো শিল্পকলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা, মানবিকতা ও সৌন্দর্যবোধ গড়ে ওঠে। আজকের শিশুরাই আগামী দিনের আলোকিত সমাজ নির্মাণ করবে—এক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক শিক্ষা অপরিহার্য।”
তিনি আদর্শ সংগীত বিদ্যালয়ের ভূমিকায় প্রশংসা জানিয়ে বলেন, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত ও মানসম্মত সাংস্কৃতিক শিক্ষার মাধ্যমে শ্রীমঙ্গলের সংস্কৃতিচর্চাকে সমৃদ্ধ করে চলেছে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, শ্রীমঙ্গলের প্রধান শিক্ষক অয়ন চৌধুরী। তিনি বলেন, “শিশু-কিশোরদের সুস্থ মানসিক বিকাশের জন্য পড়ালেখার পাশাপাশি সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তির চর্চা অত্যন্ত জরুরি। এতে আত্মবিশ্বাস বাড়ে, সৃজনশীলতা বিকশিত হয় এবং তারা সামাজিকভাবে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে।”
তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, সন্তানদের সাংস্কৃতিক চর্চায় উৎসাহ দেওয়া সময়ের দাবি এবং এ ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পরিবারকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আব্দুল ওহাব উচ্চ বিদ্যালয়, শ্রীমঙ্গলের সহকারী প্রধান শিক্ষক সুজিত সেন। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, “সংস্কৃতি চর্চা শুধু বিনোদনের বিষয় নয়, এটি সমাজকে আলোকিত করার একটি শক্তিশালী মাধ্যম। আদর্শ সংগীত বিদ্যালয়, শ্রীমঙ্গল যেভাবে ধারাবাহিকভাবে সাংস্কৃতিক শিক্ষায় অবদান রেখে চলেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।”
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আদর্শ সংগীত বিদ্যালয়, শ্রীমঙ্গলের পরিচালক ও অধ্যক্ষ করুণাময় দাশ (মৃত্যুঞ্জয়) (এমএসসি, মিউজিক)। তিনি বলেন, “সংগীত ও নৃত্য মানুষের মনকে পরিশুদ্ধ করে এবং মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করে। নিয়মিত অনুশীলন, শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শুধু শিল্পী নয়, ভালো মানুষ হিসেবেও গড়ে উঠবে—এটাই আমাদের লক্ষ্য।”
তিনি আরও বলেন, সিলেট ললিতকলা একাডেমির অধিভুক্ত হয়ে আদর্শ সংগীত বিদ্যালয় মানসম্মত সাংস্কৃতিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে তবলা শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকবৃন্দ। সহযোগিতায় ছিলেন আদর্শ সংগীত বিদ্যালয়ের প্রশিক্ষক কাজল চন্দ, শিমু দত্ত, ববি রায় ও মলয় দত্ত। পুরো আয়োজনটি সাবলীল ও প্রাণবন্তভাবে উপস্থাপনা করেন শুভ্র দেব।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক জনসংগ্রাম পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক সাংবাদিক মোঃ জালাল উদ্দিন, নৃত্যবেদ অনিতা দেব এবং শ্রীমঙ্গলের বিশিষ্ট সংগীত শিক্ষক পার্থ দেব। অতিথিরা শিক্ষার্থীদের সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সাংস্কৃতিক শিক্ষার প্রসারে এ ধরনের আয়োজন আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে বার্ষিক সাংস্কৃতিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের হাতে সনদ তুলে দেওয়া হয় এবং কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।
আজকের অনুষ্ঠানটি ছিল আদর্শ সংগীত বিদ্যালয়, শ্রীমঙ্গল-এর বার্ষিক সাংস্কৃতিক পরীক্ষা–২০২৫-এর সনদ বিতরণ ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান। পরীক্ষাটি সিলেট ললিতকলা একাডেমির অধীনে অনুষ্ঠিত হয়।
এ বছর প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী সংগীত, তবলা, নৃত্য ও চারুকলা বিভাগে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সনদ গ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে অভিভাবকবৃন্দসহ আরও উপস্থিত ছিলেন সংগীত শিল্পী ও শিক্ষক সুধেন্দু ভট্টাচার্য্য ও শেলী সূত্রধর, শিক্ষক বিক্রম কান্তি চৌধুরী, কলি ভট্টাচার্য্য, অলক দেব, সাংবাদিক রূপম আচার্য্যসহ অগণিত সংস্কৃতিপ্রেমী।