রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ০২:৩০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাতালিকা থেকে ৪৯ তম বিসিএসে ইংরেজি ক্যাডারে ১৪তম:সাফল্যের নেপথ্যে জীবনসঙ্গীর ত্যাগ ও অনুপ্রেরণা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাতালিকা থেকে ৪৯তম বিসিএসে ইংরেজি ক্যাডারে ১৪তম:সাফল্যের নেপথ্যে জীবনসঙ্গীর ত্যাগ ও অনুপ্রেরণা ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে জনসেবায় মানবিক উদ্যোগ বাবাকে হারিয়েও থেমে যাননি:মায়ের ত্যাগে বিসিএস কৃষি ক্যাডার হলেন যোবায়ের রহমান ফজলুল কাদের চৌধুরীর ৫৩তম মৃত্যুবার্ষিকীতে হলদিয়া সমাজ কল্যাণ পরিষদের জিয়ারত সরাইলে মাদকের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীর মানববন্ধন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি। ঝিনাইগাতী ক্ষুদ্র বণিক সমবায় লিমিটেডের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত বানভাসী দক্ষিণ চট্টগ্রামের পাশে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক সোসাইটি। রাউজানের হলদিয়ায় বন্যাদুর্গত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ ময়মনসিংহের শাতিল মাহমুদ আকন্দ জয়ের স্বপ্নজয়:কয়েট থেকে ৪৫ তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাতালিকা থেকে ৪৯ তম বিসিএসে ইংরেজি ক্যাডারে ১৪তম:সাফল্যের নেপথ্যে জীবনসঙ্গীর ত্যাগ ও অনুপ্রেরণা

মিজানুর রহমান, বিশেষ প্রতিবেদন : / ২৪ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাতালিকা থেকে ৪৯তম বিসিএসে ইংরেজি ক্যাডারে ১৪তম: সাফল্যের নেপথ্যে জীবনসঙ্গীর ত্যাগ ও অনুপ্রেরণা

মিজানুর রহমান, বিশেষ প্রতিবেদন:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় মেধাতালিকায় ১০২তম স্থান অর্জনের পর এবার ৪৯তম বিসিএস পরীক্ষায় ইংরেজি ক্যাডারে ১৪তম স্থান অর্জন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থী। তবে নিজের এই সাফল্যের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব তিনি দিয়েছেন তাঁর জীবনসঙ্গীকে, যিনি বিসিএস যাত্রায় ছিলেন তাঁর শিক্ষক, পথপ্রদর্শক, অনুপ্রেরণা এবং সবচেয়ে বড় শক্তির উৎস।
জানা যায়, দুজনেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তবে তাদের বন্ধুত্ব ও ভালোবাসার শুরু হয় মাস্টার্সের দ্বিতীয় পর্বে, যখন বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শেষ সময় চলছিল।
মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে হওয়ায় পড়াশোনার খরচ চালাতে একাধিক টিউশনি করতে হয়েছে তাঁকে। হলের নিম্নমানের খাবার, একটি কক্ষে আটজনের সঙ্গে বসবাস এবং প্রতিদিনের নানা সংগ্রামের মধ্য দিয়েই শেষ করেন বিশ্ববিদ্যালয় জীবন। মাস্টার্সে ৩.৬৩ সিজিপিএ অর্জন করলেও বাবার স্বপ্ন ছিল মেয়েকে বিসিএস ক্যাডার হিসেবে দেখতে। অথচ তখন বিসিএস সম্পর্কে তাঁর তেমন কোনো ধারণাই ছিল না।
ফলে নিজের ব্যাচের প্রথম বিসিএস অর্থাৎ ৪৫তম বিসিএসে আবেদনই করেননি। ৪৬তম বিসিএস ছিল তাঁর প্রথম অংশগ্রহণ, কিন্তু প্রিলিমিনারিতেই ব্যর্থ হন। এতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। চারপাশ থেকে ছোটখাটো চাকরিতে যোগ দেওয়ার পরামর্শ এলেও একমাত্র তাঁর প্রেমিকই দৃঢ়ভাবে আশ্বাস দেন—পরিকল্পিতভাবে অন্তত দুই বছর বিসিএসের প্রস্তুতি নিলে সফলতা আসবেই।
সেই বিশ্বাসকে পুঁজি করে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে হল ও ঢাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে ফিরে নিরবচ্ছিন্নভাবে বিসিএস প্রস্তুতি শুরু করেন তিনি। পুরো সময়জুড়ে তাঁর জীবনসঙ্গী পড়াশোনার দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
এদিকে আল্লাহর অশেষ রহমতে তাঁর জীবনসঙ্গী সোনালী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার পদে মেধাতালিকায় ১০ম স্থান অর্জন করে চাকরিতে যোগ দেন। এরপর থেকে তিনি মানসিক, আর্থিক ও শিক্ষাগত—সব ধরনের সহযোগিতা করতে থাকেন। দিনভর অফিস শেষে রাতে অঙ্ক ও বিজ্ঞান পড়িয়ে দিতেন, চাকরির পরীক্ষাগুলোতে সাহস জোগাতেন এবং ব্যাংক ও বিসিএস—সব ধরনের প্রস্তুতিতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতেন।
তিনি জানান, বারবার হতাশ হয়ে পড়লেও জীবনসঙ্গীর অনুপ্রেরণাই তাঁকে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তাঁর জীবনসঙ্গী তাঁর চেয়েও বেশি মেধাবী। কিন্তু তাঁকে প্রতিষ্ঠিত করতে এবং তাদের সম্পর্ককে সামাজিক স্বীকৃতি দিতে নিজের মূল স্বপ্ন—বিসিএস ক্যাডার হওয়ার লক্ষ্য—সাময়িকভাবে পিছিয়ে দিয়ে ব্যাংকের চাকরিতে যোগ দিয়েছেন। সীমিত সময়ে প্রস্তুতি নিয়েও তিনি ৪৫তম, ৪৭তম ও ৪৯তম বিসিএসের ভাইভায় অংশগ্রহণ করেছেন।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আজ আমার জীবনের যতটুকু অর্জন, তার সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব আমার জীবনসঙ্গীর। তিনি শুধু আমার স্বপ্নপূরণের নায়ক নন, আমার শিক্ষক, পথপ্রদর্শক এবং সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। পাশাপাশি আমার বাবা, মা, বোন এবং কয়েকজন নিকটাত্মীয়ের অবদানও আমি গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি।”
তিনি দেশবাসীর কাছে তাঁর জীবনসঙ্গীর জন্য দোয়া কামনা করে বলেন, “যেভাবে তিনি আমার স্বপ্ন পূরণের জন্য নিজের স্বপ্নকে কিছুটা পিছিয়ে দিয়েছেন, আল্লাহ যেন খুব শিগগিরই তাঁর স্বপ্নও পূরণ করেন।”
ভালোবাসা, ত্যাগ, পারস্পরিক বিশ্বাস এবং কঠোর পরিশ্রমের এই গল্প প্রমাণ করে—একজন মানুষের সাফল্যের পেছনে অনেক সময় আরেকজন মানুষের নিঃস্বার্থ ত্যাগই সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে দাঁড়ায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর