৩ যুগেও উন্নয়নের ছোঁয়া নেই ঘাগড়া দর্জিপাড়া–চক ঘাগড়া এলাকায়
৩ কিলোমিটার সড়ক পাকাকরণের দাবি, চরম দুর্ভোগে হাজারো মানুষ
মিজানুর রহমান,শেরপুর জেলা প্রতিনিধি: শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার ৬ নং হাতীবান্ধা ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের ঘাগড়া দর্জিপাড়া ও চক ঘাগড়া গ্রামের প্রায় তিন কিলোমিটার গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়ক দীর্ঘ তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে অবহেলিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বালির বাড়ি থেকে চক ঘাগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আকতার মেম্বারের বাড়ি, তিন রাস্তার মোড়, সোনাপাড়া মসজিদের পাশ হয়ে ঘাগড়া দর্জিপাড়া থেকে পুনরায় বালির বাড়ি পর্যন্ত বিস্তৃত এই সড়কটি দ্রুত পাকাকরণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ ৩০ থেকে ৪০ বছরেও সড়কটির কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি। বর্ষা এলেই কাদা, জলাবদ্ধতা ও খানাখন্দে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। টানা বৃষ্টিতে বর্তমানে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ফলে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবীসহ সর্বস্তরের মানুষকে প্রতিদিন সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ঘাগড়া দর্জিপাড়া (বালির বাড়ি) থেকে চক ঘাগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হয়ে ঘাগড়া সোনাপাড়া ও মাঠসংলগ্ন সড়ক, পাশাপাশি ঘাগড়া দর্জিপাড়া থেকে সোনাপাড়ার মধ্য দিয়ে মাঠের পাশ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই গ্রামীণ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। গত প্রায় তিন থেকে চার দশকেও এসব সড়কে কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি।
এলাকাবাসী জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যায়। বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। কৃষকরা মাঠ থেকে উৎপাদিত ফসল পরিবহনে হিমশিম খাচ্ছেন, ব্যবসায়ীরা পণ্য আনা-নেওয়ায় চরম সমস্যার মুখে পড়ছেন। একই সঙ্গে চাকরিজীবীদের কর্মস্থলে যাতায়াত এবং অসুস্থ রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়াও অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে। শিশু, নারী ও বয়স্কদের জন্য এ দুর্ভোগ আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি একাধিকবার হাতীবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে বছরের পর বছর ধরে দুর্ভোগ আরও বাড়ছে।
ঘাগড়া দর্জিপাড়া ও চক ঘাগড়া গ্রামের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, “জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন যদি দ্রুত সরেজমিনে পরিদর্শন করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, তাহলে দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে এলাকার মানুষ মুক্তি পাবে।”
এলাকাবাসী অবিলম্বে সড়কটি পাকাকরণ, কার্যকর পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।